পিকাপ
পণ্যের বিস্তারে নয় শস্যভর্তি পিকাপ ছুটেছে ভোরে, পথরাজ, ক্ষিপ্রগতি তার
চাল-গম দুধ আর পেছনেই সেঁটে দেয়া বিজ্ঞাপন মঙ্গায়তাড়িত
চৈত্রফের, বার্তাগৃহে কাঁপে মহাদেশ, পাঠিয়েছ জরা-কাহিনীর বিবিধ বর্ণনা।
জীর্ণ-ভুক্তা দিনাতিগ, অনলের দাহপাঠ, এদিকে আমার চিন্তা জুড়ে জলপাই
কামরাঙা, শিশুমনি, মেহগিনি, কলাপাতা আর তার গুণগান, সবুজ মার্জার
ফেলে আসা গ্রামদেশে খরারোষ, গর্জে ওঠা বাংলাদেশ, সুদূর অতীত বঙ্গলীর!
কডুরা
অশ্লিল-অশ্রাব্যহেতু উড়িয়ে দিয়েছ কথা, গুবরে পোকার বনে গুপ্ত সম্ভাবনা
তবু বলি, মেনে নাও ফুলের উপমা, জন্মকাল, সন্ধ্যাকালে কূটাভাস কডুরার
দেশে দেশে রয়ে গেছে বিবিধ ব্যঞ্জনা যত বুনোদের আচার-সংস্কার।
নদীর পাশেই ছিল বনছায়া, নাঙ্গাপাড়, প্রকৃতির নিরব বাগান ফুলেদের
জলেভাসা, ফুল নেড়ে দৃশ্যভাঙা, হেলায় ফেলায় তারে বেঁধে রাখি মুহূর্ত-মরিচা
ব্যবহারবিধি আর চিত্রকল্পরূপ, অনায়াস, ক্যামেরায় পরিচর্যা গোধূলির চরাচর।
মরিচ
দেখ কাণ্ড, সতর্ক থাকে না! ছায়া-সুনিবিড় বৃঘেরা মফস্বলে, মগ্নতার দলে
ভ্রমণে চলেছ? দূরদেশে কার্য-দিবসের বিরহে কাতর, বনে, পর্যটন-গৃহে
কোত্থেকে ঝালপোকা এসে জরদ্গব, ঢুকে গেল এক্কেবারে গর্ভে, জ্বালাপালা।
গড়াতে গড়াতে তুমি মরিচের প্রসঙ্গে বলেছ থোকা থোকা, কাঁচা ছিল নাকি পাকা?
লঙ্কান পোয়েট্রি, বেশ! সো নাইস! এদিকে গর্গরে পড়া পানি নিয়ে কত হাসাহাসি
নিরুপায়! চোখ শিশু, কেঁদে ফেলে, মরিচের নানাবিধ ব্যবহার বিরূপ বিন্যাসে।
নাবিক
ভাবনান্তর হয়েছে বিচ্যুতি ঘটেছে, বলে একজন ক্ষীণস্বর, জলের প্রজ্ঞায়
সমুদ্র-নাবিক আহা! এই হলো ভবিতব্য জলে, অন্ধ-কুঠুরির মোহে ডুবোমন
চন্দ্রিমাধাতুতে গড়া বাতিঘর দেখে দেখে দিয়েছ সাঁতার নিরুদ্দেশ।
হিমের রাজন্যজালে চোখের বয়েসিদাগ কালো-রাত্রিজ্ঞান-ডুবো সমুদ্রের দেশে
নীলছিটা আফ্রোদিতি, তার ডাক, পেরিপ্লাস, ঝোলায় ব্যাপৃত গভীরতা কাহিনীর
কত অজানার জলে পরিণতি, আত্মাহুতি, ছড়িয়ে ছিটিয়ে গল্পে সমুদ্র-বিহার।
বর্ষাতি
রবিবাবুর কাব্যের ঘন চিত্রায়ন, দেখি সজীবতাসহ বর্ষারূপ ক্ষেতে-মাঠে–
বিস্তারিত জানিয়েছ বর্ষাকাল, আধডুবা কাশবন ফুটে আছে তোমার কাঁথায়
বারান্দায় গভীর বৃষ্টিতে ভিজে, বর্ষা একদিন জবুথবু, গুরুতর সমাহিত।
আর দেখ, চিত্রের বর্ষাতি ফেলে তুলে নেয়া ব্রহ্মজ্ঞান বরিষ-অধ্যায় আষাঢ়ের
কয়েকটি কিশোরী গ্রামের মেয়ে, বাঁশবন, সরুপথ বেয়ে আলে, ক্ষেতের জলায়
বর্ষার প্রসঙ্গে হাসাহাসি করে, মোপাসায়, তারা ফিরে যাচ্ছে ঘরে তুমুল বর্ষায়।
টোটকা
রাতে, টোটকায় ক্ষিপ্র ষাঁড়, চোখা শিং, বড় বড় চোখ ফুঁসছে, ফুঁসছে অহর্নিশ
আঁতকে ওঠেছি! হীনাচার, ক্যানিব্যাল মাংস উৎসবের ভিড়ে, উৎকণ্ঠায়–
সারারাত কুপি-আলো, মন্ত্র আর শব্দবন্ধে ঘিরে ধরা গেরস্তের ষাঁড়ের অর্চনা।
চোখা শিং পেট চিরে দেবে, ফাঁকে, বিপরীতে আসা ষাঁড়ে লেবু আর মটকা-পীড়ন
তার শিংও ভেঙে দেবে এরূপ বিশ্বাসে, দড়িকাটাদল, ত্রস্ত, ফিরে গেছে টোটকায়
দিবসে খেলার ব্যাপ্তি ষাঁড়ে ষাঁড়ে, গ্রামে গ্রামে, মানুষে মানুষে তারা টোটকা-বরাতে।
আড়ং
বিজয়ী ষাঁড়ের গলে, পরিয়েছ টাকাভর্তি কাপড়ের মালা, গ্রামদেশ ঘুরে ঘুরে
ছুটে আসা বাদ্যদল দিয়েছে মন্ত্রনা সংগীতের, যন্ত্রগানে বিজয়ের প্রকাশনা
লড়াইয়ে মগ্ন মন, কিছুই দেখেনি এর বেশি লোকারণ্য জনতায়।
পরাজিত-ষাঁড়ে ক্ষতলিপি ব্যর্থদের, বিষাদ-পেষণ হেসে ক্রুররূপ সমাপনী
তারা, ফিরে গেছে দূর কুয়াশা-কুটিরে; ভাঙা মণ্ডপ, গোশালা, খণ্ডকাচ-
অর্চনাদি ফেলে রেখে দাহিকায়, গৃহে গৃহে ছুরির তীব্রতা স্বপ্নজমা আগামীর।
কোদালি
বিলের জলায় মই-কোদালির চিত্রায়ন, দেখ নিদারুণ, ফসলের সংগ্রাম
দ্বন্দ বাড়ে হিরালী ও ডুবুরির, জল-মাটি আকাশের বিদ্যুত-হুংকারে, বিধাতায়
দূরে ওই খড়োবাড়ি করেছে প্রার্থনা বিচালির ঝড়-বন্যা ক্ষতআর্তিসহ ত্রস্ত চলন্তিকা।
সহস্র সহস্র কৃষকের জাড্য চোখ আর স্বপ্নায়নে, ফুঁসছে ফানুশ নিখিলের
ঈশ্বরের ক্ষিপ্রতা হিরালী মন্ত্রে, কাঁপছে প্রবাহ বাতাসের গোশালায়
আগুনের আঁচে প্রকম্পিত চাষাদল বরফের কুচিগুলা জোঁক হয়ে নেমে যাবে জলে।
কুটুম
ঝাঁকঝাঁক কুটুম পাখির ছায়া ধুতুরা-বাগানে, পাশে, মধ্যমাঠে, বিরাণ প্রান্তরে
সেবার এপ্রিলে তারা অপরিণামদর্শি ক’জন, মগ্ন, বিপণ্নের পরিণাম-কল্পে
দুপুরের ব্যস্ততায় উদগত বনমালা, কথাচিত্র, মাঠে মাঠে নকশিকাঁথার রূপরেখা।
মেনে নিচ্ছি খননের গল্প আরোপিত, রাখো না সময়জ্ঞান, ভাসমান বপনের
প্রখর রোদ্দুরে পুড়ে আল বেয়ে চলে যাচ্ছে বনরুই, সে কি মাছ কোনো?
ঔষধি বিষয় বলে ছায়া কাটে একজন, আলে হাঁটে, দাঁত মাজে ভাঙা-নিমডালে।
গন্দম
উড়োজাহাজের শব্দ শুনে ঊর্ধ্বমুখ, বেরিয়েছ ঘর ছেড়ে, কাকরুল, ডেওফল
শিমলতা বনঘেরা স্কুলঘরে কোলাহল শিশুদের, শকুনের অভিজ্ঞতাসহ
মুরগীর বাচ্চাগুলা কান্নারত উঠোনের কোণে, পিতৃহীন মাতৃহীন কচিদল।
বিদগ্ধ-পীড়িত দেশ! জ্বালাময়, খাঁচাবন্দি মানুষ চলেছে কিছু বিদেশ-প্রণয়ে
বন্দরে বন্দরে পণ্য, আত্মপর ত্রস্ত মানুষের ফেরা, দৃশ্যভুক চিনতে পেরেছ–
কয়টি অচল মুদ্রা, সিলগালা, মুখোশ ও উজ্জ্বল ডাকটিকিট বৈদেশিক খামে।
মৌমাছি
আগুনের দাহ আর উড়ন্ত মৌমাছিদল, গজকুম্ভ, যুবার প্রজেক্ট নিয়ে ভাবি–
তৃতীয় বিশ্বের এক বিরাট বিষ্ময়! গাছে গাছে, মাছিদের বিশ্বায়ন সবিস্তারে
বনে বনে ঘুরে ফিরে বলেছে সে অজস্র কুঠুরি, মধুসুধা, দেখ প্রবাহ-প্রণালী।
আধমণ তরল ঔষধি, ঝুলে আছে নিম্নগামী, সহস্রের সম্ভাবনা ডালে ডালে
রাণী উড়ে গেলে তারা থাকে না চাকের মোহে ফেলে রেখে ফুলের তরল ফল সুধা
দিনমান বনচর, তাড়িয়ে নিয়েছে তাকে জলায়-জংলায়, শেরপুর, মুক্তাগাছায়।
বড়শি
ক্ষুধার্ত বোয়াল এক, দীর্ঘশির, ঘোরাফেরা করে মস্ত পুকুরের জলে
ব্যস্ত-শিকারির গতি জলের আবেগে স্থির, ছিপের নতয় দৃশ্যরূপ প্রেমিকের...
বড়শিতে টোপ দেয়া পুঁটিমাছ টুপ করে গিলে নেয় গভীরে জলের, তলদেশে।
অধরা-মাধুরী বিষাদিত কাব্যগ্রন্থ পড়ে আছে ধূসরিত, বৈকালিক প্রতিবেশে
ক্রমশ সুতোর টানে আলোড়ন, জলের দোমালি ভেদ করে সন্ধ্যাধ্বনি
মৎস্যবৎ কুশলতা, প্রসারিত বোয়ালের বুক চিরে, ঘরে ঘরে, পল্লিতে-সন্ধ্যায়।
কালাই
সরকারি রাস্তার দুপাশে শস্যায়ন, দীর্ঘমাঠ, সভ্যতার মটর-কালাই চাষ
বহুদিন পর দগ্ধপ্রাণ এইসব, সজীবতা সঞ্চারণ, বিরহিত বৈদেশের, ভ্রমণের
নালিঘাস, পাতাপুতা, খড়োঘর দুপায়ে মাড়িয়ে আমি শহরে এলাম।
মাইল মাইল-ব্যাপে সবুজের চিত্রায়নে শোভিত তোমার দেয়ালিকা
তৃতীয়বিশ্বের সৌরশক্তি শুষে নিচ্ছে জল, হিতৈষণা, নিবেদিত তোমার অন্তরা
ফলে দেয়ালিকা থেকে বর্ণরৌদ্র ছিটকে পড়ছে দিগ্বিদিকে, জ্যোতির্ময়।
বিভূতি
দিন যাচ্ছে অহেতুক, বিস্মৃতি বলতে শুধু দুটি কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়া...
পুকুরের পাড়ে চিত্রপট স্বদেশের, প্রীতিরূপ, পাশাপাশি বেড়ে ওঠা দুটি গাছ
এরকম বহু বসন্তদিনের স্তুতি হয়তবা স্মরণে দিয়েছে টান মননের।
মৃত্যুচিন্তা সহসাই কাঁপিয়েছে, যদিও বলেছি কাবারাবা হাবাদের...
এখন সময় ডিজিটাল গ্লোবাল মিডিয়া, বর্ণায়ন, যৌথ ভাবনার–
দিন যাচ্ছে অহেতুক, বিস্মৃতি বলতে শুধু দুটি কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়া গাছ।
কদম
নাককাটা, কদমের গন্ধ শুঁকে কী লাভ কী লাভ আজ বলেছ প্রকাশ্যে
ভয় নেই, জনান্তিকে এই নিয়ে আদিখ্যেতা, গুঞ্জরণ, মানুষে মানুষে...
কদমে রেখেছ চোখ, ভীষণ কোমল! ধায়, কিশোরীর আত্মসমাপন বৃষ্টিজলে।
এষণা কুসুম তুমি বীতস্পৃহ, অহল্যার, ডুবে গেছ কোন এক বিস্মৃত-গহ্বরে
জাগরের দেশে ঘুম, নির্ণিমেষ, পুনরায় লাল সূর্য ঘাসে ঘাসে তির্যক রোদের
দীর্ঘ ফসলের মাঠ, প্রার্থনায় কবিতা কবিতা বলে নাড়িছেঁড়া সহোদর ডাকে।
ক্যামেরা
এঁকে দাও গূঢ় কিছু প্ররোচনা, সিঞ্চিত তুলির প্রীতি ক্যানভাস জুড়ে
পাখিদের উড্ডয়ন, নির্জন উদ্যান, অনাবিল, আঙুলের সঞ্জীবনী ফুলে ফুলে
বেঁধে রাখা সুঁইয়ের মগ্নতা, আহত নীলে চন্দ্রের উপমা কুয়াশার নিধুবনে।
তোমার তীক্ষ্নতা, ক্যামেরায় যতদূর যায় চোখ তারো বেশি দেখে ফেলে ধুধুরেখা
লালটিপ, সূর্যরশ্মি কপালের, আবেদিত কয়েকটি কাঁচের বোতাম, প্রদর্শনী
ছড়ানো-ছিটানো যত দর্জির ক্ষিপ্রতা, চিত্রভাষা, সুঁচলিপি, জিগিষার মর্মমূলে।
মন্দির
আদিমঠ ওই তো শঙ্খের ধ্বনি জলায় মীনের ঝাঁপ দেখ পাখিগুলা উড়ে যায়
দূর কোনো পল্লিতে মন্দির, মাটির দীক্ষিতা করে, নিরন্তর, পূজাটুজা আসে তাতে
উঁচু তার শিরদাঁড়া, মর্মান্তিক! শতাব্দির এই ঘণ্টা, জাগরূক, মুনিয়ার দেশে।
শীতল আবহ ঘেরা প্রতিবেশ, ঝিঁঝিঁরব, নতনমো সহিসের অর্চনা ধর্মের
পাখি এক উড়ন্ত মনীষা, উড়ে উড়ে দূরে দূরে, মহানীল, ঘুরে ফিরে অজানায়
উড্ডিন কার্নিশে তার উড়ো-অভিধান দেশ-বিদেশের ভাষা-পথিকের বিবরণ।
মোরগ
ঘুমভাঙা ভোরে লাল ছিটা মোরগের ডাক, খোঁড়ারোদে পিতা-পুত্রে জুটি
সকাল মাথায় করে উদভ্রান্ত, চলমান, যাপিত জীবন, স্থানভেদ স্বরূপের
ছুটেছে গঞ্জের দিকে প্রত্যুষ মোকামে তারা, তড়িঘড়ি, ফেরি করা আনাজ-বণিক।
শনের চালের নিচে মা আর মেয়েটি, টুকিটাকি স্বপ্নেরত, আগামীর চেতনায়
অচেনা পথের বিধি, কুশলাদি, পিঠাপুলি, প্রতিদিন ট্রেনের আকাক্সা...
এই গল্প বলেছ প্রকাশ্যে, হাটে, বাজারের ভিড়ে, শিরোনামহীন দিনলিপিহীন।
উপমা
কিভাবে আঁকবো এই ইন্দ্রিয়বৈকল্য, ধারণার বিধিরূপ, কল্পদেশ–
ভাবনা বিগড়ে যায়, যদি বলো পথিমধ্যে কোনো বুড়োবট, প্রবাহিত নদীস্রোত
ওড়ে চলা গাঙচিল, সমাহিত সবুজ প্রান্তর, একটানে এঁকে দিতে পারি তাও।
ও সাঁই তোমার দরবারে যোদ্ধাহত প্রাণপণ, নতমুখ, ব্যাকুলের অভিধায়
আমি সেই বুড়োবট সবুজ মাঠের ধারে, বাস্তুসন্ধ্যা, দাঁড়িয়ে রয়েছি একঠাঁয়
ভাবনা বিগড়ে যায়, হায়! উপমা অঙ্কনরীতি আমার গোচরে নাই।
কবিতা
যৌথবিদ এগিয়ে চলেছে সঞ্চারণে, লক্ষভেদী প্ররোচনা, বড় ভয় সমাবেশে–
কিরূপে সম্ভব আজ বিনীত এ দাসে, মনরূপ সম্প্রদান, সংসারের মনীষায়
দাহরূপ পাঠ্য, দিকে দিকে, ফলে সামান্যেই ভেঙে পড়া ভয় কঠিনেও।
সংসারজ্ঞানে নদীরই রয়েছে কেবল সূক্ষ নির্দেশনা, পারাপার মাঝির নৌকোয়
কারুভাব গন্তব্যের রীতি, যোজনের, তুমি দেখছো না মূল প্রযোজনা চিত্রালীর–
অচল ক্রীড়ায় তারা দুইতীর ভেঙে বলে, অভিঘাত, তোমাদের দিয়েছি কর্ষণে।
বিড়াল
দুধের অতিথি, একদিন নেমে আসে চুপি চুপি বন ছেড়ে, মাংসভুক মদিরায়
গেরস্ত ঘরের দাওয়ায়-রান্নাঘরে, শ্বেতশুভ্র আনাজের চরাচরে ভীরু, ভগ্নাংশদ্যোতনা
ঘ্রাণের ইন্দ্রিয় তার, কঠিন বাৎসল্যাতিথি, দৃষ্টিচোর, গৃহে গৃহে দারুণ মার্জার।
দেখ আজ, উপদ্রুত, মুষিকের অন্বেষায় দিশেহারা গৃহকোণে, সরণিতে ফ্যাউ
দুধে-মুষিকের ধর্মে বসে না তোমার মন, অসহিস, সময়ের বিরূপ বিদিশা
পূর্বাপর নিচ্ছো না বাৎসল্য সন্তানের, বেপরোয়া, বিবসনা, দুদিকেই ছুটেছে সে।
শিকার
কলাই অধিক শ্রেয়, চারুকলা পাঠশেষে, দ্বিধামুখ, জানালে সংহিতা গম্ভীরায়
দেখ বেড়ে যায় অভিনয়-জ্ঞান, জনে জনে কথাগুচ্ছ, মতান্তর, পথে-বিবরণে
কলাকে ফলাও করে জানিয়েছ, ভারি হয়ে যাচ্ছে, ঝুকে যাচ্ছে সহস্রাব্ধ।
তুমি হিত-কারুকার, আত্মমগ্ন, খেয়াল করনি প্রাণাধিক সোচ্চারণ...
পাতাদের জীবনী পড়েছ? কি হেতু ঝরেছে বিষ? কান্নারূপ, ভূগোলের অভিপ্সায়
পুনরায় বলি পড়ো, বৃক্ষের রচনা, কারুণ্যের, দেখ, মরে গিয়ে গাছকে বাঁচালো।
কপাট
আলিবাবা আর তার চল্লিশ চোরের গল্প শিশুভোলানোর মর্ম আমাদের দেশে
গল্প জুড়ে মণি-মাণিক্যের প্ররোচনা নৃপতির, হরণের অভিপ্রায় দিকে দিকে
দরজার ওপারে ঘুমন্ত ডাকুদল, অসখা রাজন্যযোগী, গৃহত্যাগী বনছায়।
প্রবেশিকা শেষে হলো কত সম্পর্ক রচনা, নির্বিরোধ, মানুষে মানুষে–
একধাপ, দুইধাপ, তিনধাপ তারপর চূড়ান্ত আকাশ তারাদের, চিরসখা অসীমের
দরজা খুলেই দেখা যাবে স্বপ্নপুরী, কর্মশালা, ব্যাপ্ত-চরাচর গুপ্ত-পৃথিবীর।
আয়না
মুখোমুখি প্রার্থনারত দুজন, উদ্বিগ্ন-ব্যাকুল চোখে প্রকাশনা, ভাষার পর্মর
মাঝখানে সূর্যরশ্মি ঢুকে পড়ে আড়াআড়ি, দিবসের শেষে রঙধনু আকাশের
নদীতীরঘেঁষা দুজনের গল্প তীরে-জলে জলকেলীরত পুরনোর ক্বাসিদায়।
চিত্রকল্পে পথের মানুষ, উড়োপাখি, দ্রুতযান গন্তব্যের, বিপরীতে কোলাহল
বিদ্যুতের তারে বসা দুটি পাখি, অবিরাম গেয়ে চলা বসন্ত-সংগীতে...
আয়নায় মুখোমুখি দেখে ব্যাকুলতা বাড়ে, হাসাহাসি, লোকে লোকে প্রেমের সম্পর্কে।
কফিন
মাথা কই মৃতদের দেশে? ধ্যানমগ্ন ঘুটেকুড়ো, বসে আছে সাধু এক তেমাথায়
ভয়ে বলি, কেগো তুমি বাবা, এইখানে, অন্ধকারে, সংখ্যাগুরু ফসিলের
কেটে ফেলা দুটি গাছ, পড়ে থাকা দ্বিধাজড়, মৃতদের, মুখোমুখি কামকেলী করে।
প্রজ্ঞাপণ, বিশেষত মানুষেরা এরকমই হয়, স্তব্ধরাতে গুঞ্জরিয়া সভ্যতার
কামভোগ দেবতা-দেবীতে, মৃদু ফিসফাস, বিসর্পিল বাতাসের কবরপাড়ায়
কামের সময় মাথা থাকে না, থাকে না মনীষার চিত্রকলা, দশচোখ সুদাসের।
সংসার
বলেছ বিবর্ণরূপ! স্পর্শমাত্র সরে যায়, জলের চিত্রণ-কলা দুরূহ-কঠিন–
ঘাটাঘাট দেহমাত্র স্তরে স্তরে, খাতায় আঁচড়ে চিতা কিংবা ডোরাকাটা আঁকিবুকি
তোমার শাদার ক্যানভাস তাতে জলের সিঞ্চনে তুলি তার দীর্ঘটান, চক্রঘোর।
কিংবা ফোঁটা ফোঁটা লালে মেনেই নিলাম প্রণয়ের স্বর্ণচোরা, জলে, যুদ্ধরত মীন
এ্যাকুরিয়াম বিদ্যায় মগ্নপ্রাণ কোটরের, তেলে-জলে সাজিয়েছ মীনের সংসার
তবু জল কুয়াশা-বিদিত, আর তার নিচে, দিয়েছ স্বার, মীনরাজা অঙ্কনের।
রুমাল
পাতায় দিয়েছি হিয়া রাখিয়ো বান্ধিয়া, চিরকাল, সযতনে কোটরের গূঢ় বিনোদিনী
এই লেখা পড়েছিল পথ-পাশে, খড়োস্তুপ, পাতাদের বেদনায়, আহত রুমালে
মোটেও বলিনি পাতা নিষ্প্রাণ-নির্জীব, ঝরে-মরে পড়ে থাকে প্রতিদিন।
বরং গিয়েছ তুমি পাশ কেটে অভিষ্ট গন্তব্যে, রুমালে ঝগড়া হয় এই বলে–
পাতাদের ছেড়ে দেয়া পথে, যথাকালে, যাত্রাশেষে বিবরণ, অহিংসা অধিক শ্রেয়
উপরে দেখেছো? নতমুখ, শূণ্যডাল, প্রার্থনারত ধরিত্রী নড়ে ওঠে দীর্ঘশ্বাসে।
নজর
তাকালেও পুড়ে যায় গাছ! বাড়ি, শস্যবন, তীর্থপথে ক্ষতদীর্ঘ প্রেমিক-হৃদয়
প্রমত্ত পণ্ঢর, দেখ পরিস্থিতি, কিরূপ তরাসে কাঁপে! কুম্ভজলে বিঠোবা রমণী
মহাজাগতিক লাস্য-তামাশা, চন্দ্রিকাজট, পৌর্ণমাসী গোমেজের অসহ্য জ্যোৎস্নায়।
তাকালে বিষের রূপ ফলে, দ্রাক্ষা-অন্বেষায় পুড়ে গেল গন্দম-কাহিনী
নিষিদ্ধ পথেই শেষে পা-বাড়ালে লালসায়, ফললাভে রূপারোপ মানব-কল্লোলে
ভয়াল ত্রিংশের কোলে বর্ণসূত্র, জলগৃহে স্ত্রস্ত, ডুবো-পাহাড়ের বিপণ্ন স্বদেশ।
আগুন
স্বচ্ছ আর গভীর সমুদ্র-দেশে বিরুদ্ধ আবহে ঘোরাফেরা করে একদল মীন
জল-বুঝে তারা মনযোগী জলে, ক্রীড়নক, গতিমুখ সাঁতারের, পাঁকের রেখায়
তিমির লেজেয় দিয়ে ভর, বেদেনীর জলযাত্রা, নিরুদ্দেশ ভাসানের, তরঙ্গায়।
জলক্রীড়া শেষে অগ্নি-উপাসনা, নড়বড়ে আকুলতা, ভয়ানক মীন-শিকারির
গর্ত থেকে বেরিয়ে পড়েছে ক্রোধ, দুটি সাপ জলে, এলোমেলো মূর্ছনায়
লেজ ধরে টানাটানি, এখন ভয়ের ডিঙি ঢেউয়ে কাঁপা, তীরমুখি, আগুন পূজায়।
ঘটনা
ফাঁপা অণ্ড, গোলগাল, উপগত উষ্ণীষে মনীষা ব্যথাতুর, অন্বেষায়
তুড়ি দাও এইখানে, বিষে বিষে নীল হয় আমার বৈষম্য, বর্ণচ্ছটা
ফেনাভর্তি ঘূর্ণিচোখ, লাল মনীষার, তুমি গিলে নিলে নির্দ্বিধায়, বিষের ঢেকুর।
ব্যথা পেলে চোখ থেকে পানিও তো পড়ে, একা একা জোছনায়, সমীরণে
আর দেখ ঘটনা কী মর্মান্তিক! নীলের দ্রবণে বাড়ে গ্লাসের সৌন্দর্য টেবিলের
দেশে দেশে চুমুকের প্রণোদনা, দিনে দিনে তোমরাই ছড়িয়ে দিয়েছ।
ধনুক
আকাশ ঝুলন্ত ওই তারাদের মাঠ, উড়িয়েছ ডোলঘুড়ি ঊর্ধ্বস্বপ্নচারী
ধনুকের ডাকে চরাচর কাঁপে, হে করুণ অধ্যাপক, কেন ছিলায় দিয়েছ টান?
বার্তা পাচ্ছি নিখিলের, আকাশ-বাতাসে গৃহায়ণ, সম্ভাবনা ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিন্তু এ কি কাণ্ড, শেষে, দড়ি ছিঁড়ে ঘুড়িই পালালো, পথচারী হাসে
চিন্তারত নির্দেশক, এই দৃশ্যে গ্রামীণ আবহ নাই, কুপি বাতি নাই
বিশাল ক্যানভাস খুলে, মঞ্চ থেকে নির্বাসিত কয়জন বিষণ্ন বদনে।
পালকি
পাশে ছিল পাখিদের প্রজা, সুপ্ত, উহ্য, খাদ্যঘ্রাণে তারা আনন্দ শিকারি
ভুবন জয়ের কোনো বাহিত দর্শনে নয় শব্দের সন্ত্রাসে আগমনী, মেঠোপথে
নবমুখ বধূটির চন্দ্রায়নে মাটিবর্তী, গ্রামদেশ কাঁপিয়ে চলেছে উচ্ছ্বাসায়।
একমুঠো ধান, তাতে গোলাভর্তি ধানের ব্যঞ্জনা, কূটচাল ননদীর, বরণের
ব্যাপৃত পাখির গান, নদীতীরে এইসব সামান্য ঘটনা, দেখ প্রতীতি-হরণ
সোয়ারি ভ্রুক্ষেপহীন, ধানের ঘটনাসহ ছুটেছে দিকপাল রাজ্যমোহে।
মিঠাই
ভাষা নিয়ে পুনরায় দুর্বলতা আর রূপকল্প সেও একটা বিষয় আদতেই
তোমাদের পুঁথির প্রভাব জনে জনে, মিত্রজ্ঞান রসিকের, ভোজনের কালে কথা
ঋদ্ধ পাঠশালা, যথা, বসেন্ত কুটুম! কিছু বচন করেন সুবচন বিস্তরেণ।
আখরসে তৈরি হচ্ছে গুড়, চিনিকলে উল্লাসে পিঁপড়েদল, পূর্বাপর রচনায়
ভারি হচ্ছে কাহিনীর খাতা, কালো কালো মানুষের নিবেদিত স্তুতিগান
গোঁপীচন্দ্র, কান্তজি রামমন্দির, কৃষ্ণদিঘি পাঠশেষে বসে আছো একা, নদীতীরে।
পুকুর
কুয়াশা রাতের কথা, এক লিঙ্গরূপ, অন্য আর লিঙ্গরূপে তিরতির কাঁপছে
এইদৃশ্য দেখে যায় একজন, জড়োসড়ো, কাছাকাছি বেতবন জোনাক-আলোয়
মীনপূজা, মীনেদের দেশে গভীরে জলের; তার ঢেউ পাড়ে এসে লাগে।
সহসা জলের ঘূর্ণি, খলবল পুকুরের, আঁতিপাঁতি, তেঁতুলের বনে ব্যস্ত যারা
হাস্যরত, চাঁদ বুঝি ভেসে যায় মধ্যচন্দ্রিমায়, পরীদের ডানা ধরে, বাতাসের
জলে, অন্য এক মূর্তমান কলা, ভাসমান ঝিকিমিকি, প্রণতীর গূঢ় কপিলায়।
ঝিনুক
যেন কোকিলের ভাষা স্বাভাবিক সাবলিল, ফুটে ওঠা রেখায় রেখায়
ভূতাবহ প্রতিবেশী আসে, বলে, দেখেছেন দেখেছেন সুন্দর বসন্ত ফুটিতেছে
কী ভীষণ মগ্ন, ঘুমিয়েছ ঝাউপাতা? পাতার জীবনী ভেদ করে ফুলেদের দল।
মুক্তাভর্তি ঝিনুকের কাহিনী-বাথান জলাজুড়ে, সমাগত চৈত্রকাল, শুষ্কবন
প্রার্থনায় বসেছে কুড়ানী, চোখে ভাসে মুক্তা, ঝিনুক খোলস, প্যাঁকপ্যাঁক হাসেদের
প্যাগোডা-মন্দির বল বল ঝিনুকেও দাহ দাহিত যে জন জানে ক্ষত-বেদনার।
চারণ
মধ্যরাত্রে উচাটন মফস্বলে রাত-মোহনীয়া, বাজে রাখালের বাঁশি, মধুময়
জোছনা-বাড়িতে পাখিদের ভিড় রাতের গভীরে, ডানবিধি, মজলিসে তর্জমায়
ধ্যানীপাখি-মুনিপাখি পাখির পালকে ছোপ ছোপ বৃষ্টিমাখা, পাখিরা বার্তাবাহক।
নিশিতে, শাব্দিক ঝিঁঝিঁ-পোকা আর নড়ে ওঠা ক্ষণিকের নারকেল পাতায়
যে পালক গিঁথে আছে, তার কাছে সন্ন্যাস চাইবো, ভাবি বিষমের কালে–
চলে যাবো পাখিপাড়া জোছনা-বাড়িতে, পাখিদের ভিড়ে একদিন পাখি হয়ে যাবো।
সালিশ
চুরিরাতে, বেদনার নীলে হা-কপাল! ত্রিমাথার উপমায় শ্রীপ্রকাশ, কেন যাও?
কালোভুশা মুদ্গরের, বসে আছে একজন সহৃদয়, নিয়তি-নির্ভার স্বপ্নদেশে
গৃহকর্তা ঘুমঢুলু, জাপটে ধরে অন্ধকার, বেড়ে, কোমলতা বৃক্ষে ঘুমিয়ে পড়েছে।
পূজোয় দেখিনি তাকে, আসেনি সে সালিশের ভয়ে, জাদুকর, রঙিন খেলনা হাতে
শস্যগন্ধ্যা বিপরীত, তার, সিধুচোরে ভয়; সকালেই বিবরণ, কথায়-লোকের
খোয়া যাওয়া নারকেল-গাছের, হলুদের বন টুকিটাকি আরকিছু শস্যগোলা তামাটের।
মাদুলি
সজিনার ডাঁটা আর সিঁদেল-বেগুন, আলো ব্যঞ্জনার ছড়াছড়ি জলের ভাসানে
সন্ধ্যার আলোয় দীপ, ভাটি-আঘাটায় জলের ত্রস্ততাসহ মধুকর, সপ্তডিঙা
মাদুলি, মোহর আর কামরূপ কামাক্ষার একখণ্ড সাপরূপি-ডালে জলে ভাসা।
সর্প-বিবরের কালে বেদেনীর হাসফাস, দুধের-মাছের স্বপ্নে দিনানুদৈনিক
বেদে-বেদেদের, জোয়ারের কালে সন্তান বুকের দুধে সাপখাবে স্টিলের বাটিতে
ধুনদেশে বেদে-ঠাকুরের অনুষঙ্গ, ভারতমগ্নতা, চলমান, ভেঙেই চলেছে।
খিজির
সাঁতার জানি না বলে জলে ভয়, পূর্ণকলা থমকে থমকে চলে, সামনে বাড়ায়
মননের জলঢোঁড়া তেড়ে আসে, বিদূষক বামনের, মৃতদের সাহস দেখায়
আটকে যায় পা, হাত, কোমরের শরীরের জলকলা, ঘূর্ণমান পাঁকের শ্লাঘায়।
দেখিয়েছ জলের আছর, কেগো? মধ্যপুকুরে শীতল কালাডোর, প্রত্যয় জলের
উদাস বৃষ্টিতে ভিজে আম্রকুটি, গাছে গাছে পাতার ব্যঞ্জনা, মৃদু, নড়ে ওঠে বন
মফস্বলে, চেনাপথে বৃষ্টি যদি চলে আসে? ভরাডুবি হবে, ফেরাও আছর জলে।
তফাত
প্রত্যহ ঘুমের জরা ভাল নয়, খরাকাল, হিতে ঘটমান, মঙ্গলের বিপরীত
কেউ এসে ভাঙাঘুমে ডাকবে, বলবে অকষ্মাৎ, কিরে ডুবে গেলে নাকি একেবারে
ওঠ, জাগ দেখি, ওরা সব পলাতক এসেছিল ঘাটে, ক্রীড়াহত, ভবিতব্য কালে।
আর আমি ঘুম নিয়ে ভাবি কত জাগরিত মহিমা স্বপ্নের, নৃত্যপর বৈনায়ক মথুরায়
তফাতে নেড়েছ হাত? কাকে? ছুঁড়ে ফেলে দেবে নাকি জলে? ঘূর্ণিতে? জঠরে?
যে তুমি তফাত; থাক, কায়াই অধিক মোহ বাড়িয়েছে, বলেছে সে, বিষম প্রকার।
বৈশাখ
মস্ত বৈশাখের তোড়ে বৃষ্টি প্রযোজনা করি শয়নে-স্বপনে স্থিতধির জাগরণে
নিরুপায়! এমনিই চনমনে ব্যাকুল বৈশাখের ভাবনায়, ভীত, কালো-আকাশের
প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা, কদমের গুচ্ছ, পাখালির রীতি আর ঠাকুরের গানে মন।
দরজার কড়িকাঠে দ্বাবিংশের স্বাগত-শুভম, জেগে ওঠে জ্বাতিতত্ত্ব প্রণোদনা
কাক্সাজল, পরাপাঠ পত্রালীর, আমার অর্থনৈতিক ভাবনায় তবু অহেতু সময় যায়
কালাঝড়, তুখোড় বৈশাখে ভিজে নাড়ামোড়া, চিন্তাগুলা মুষড়ে পড়ছে ক্ষেতে-মাঠে।
গ্রহণ
ব্যাখ্যাহীন, না জেনেই আকড়ে ধরেছে মধ্যযাম, কৃষ্ণপক্ষ, বিবমিষা পৃথিবীর
কামাগ্নি-অনল জলে গ্রহণের সদাচার প্রশ্ন হাঁকে রূঢ়, আমাকেই পীড়া দাও?
কেন এই মর্মসার, মূলে, উদরে তরুর রসে মহাত্মন? দ্রুত-পদ, বেলা যায়।
কণ্ঠায় জমেছে মেঘ, থাবা দিয়ে ডেকে নেয় অন্ধকারে, আরূঢ় রৌরব ছেড়ে এসে
ক্রীড়ায় বসেছে মন, ত্রিজগত ফানা ফানা করে পশ্চাতের ব্যবহার–
মগজে বিষের লোল, মহাত্মন? দুর্বিপাকে, ব্যাখ্যাহীন জনান্তিকে বাঘেদের থাবা।
ফোয়ারা
ধান-কালাইয়ের দেশ, পাখালির স্বপ্নায়ন কি লিখবো? ভোরের রঙিন সূর্য আর
নদীর কল্লোলে জাগরিত চেতনার উপমিতি, ফুলে-ফলে আমার দেশের ব্যাপ্তি
রূপকথা শিশুদের কল-কাকলিতে রাঢ়দেব, জাগরের, ঊর্ধ্বে, উঁচিয়ে ধরেছে।
ভোরের সকাশে কাঁপে উত্তোলিত বাংলাদেশ, পতাকার পতপত ধ্বনি বাতাসের
এ সবুজ বন তাকে স্বপ্ন দিয়েছিল একদিন, শিশিরের জলে ভেজা সর্ষেফুলে
আনন্দদিনে, বৃদ্ধের হাত ধরে ফোয়ারায় নিবিড় বাংলার ধারা ঝরে অবিরাম।
Friday, July 3, 2009
আমার কবিতাসকল
অদ্যাবধি বড়ু চণ্ডিদাস
অচ্ছুত অনার্য এক পেয়েছে সোনার চুরি
এই নিয়ে আদিখ্যেতা দেশে
সন্নিকট কাকিল্ল্যায় শ্রীনাথ মুখোপাধ্যায়
অধিকারে ছিল, মহাশেষে।
শ্রীনিবাস আচার্যের বংশধর দৌহিত্রের
পুঁথি নিয়ে বসন্তরঞ্জন
বিবরিলা কংশরাজ বিরচিত চণ্ডিদাস
শ্রীসন্দর্ভ এ কৃষ্ণকীর্তন।
নিষেধ রয়েছে স্তনে নখাঘাত, আইহনে
ধ্বংস হবে মথুরানগর
দেবতা বিরুদ্ধ হলে বাসলী চরণ ভুলে
চণ্ডিদাস বনবিষ্ণুপুর।
রাধাবুলি আনঘাটে বর্ষায়, আনন্দে হাটে
কৃষ্ণচিত্ত বিবিধ প্রকার
মহাদানী যমুনায় গোপীজন মজে তায়
আলিঙ্গনে বড়ায়ি প্রখর।
কোড়ারাগ একতালী সরস বচন বুলি
বাঁশি নাম জপে রাধা রাধা
আধেক প্রণয় গুণে সখিগণ সুবচনে
আইহন-মায়ে করে বাধা।
কৃষ্ণবিনা যুগযুগ মদন পীড়িতা রাধা
উতলা, যমুনা নদীকূলে
বৃদ্ধার চাতুরি দেখে ছলায় নন্দন বিকে
কৃষ্ণবাঁশি চুরি কুম্ভজলে।
বিমনা তরলা মতি ক্রীড়াকর্মে সূক্ষ অতি
কৃষ্ণবিনা না বুঝে আকার
সময় করাত-কলে কানাই বিভ্রমে ফেলে
ধর্মাধর্ম, রাধা অভিসার।
মাতৃভ্রমে কংসরাজ বিপাকে পড়িলো তাজ
গুরুসঙ্গ বিলম্ব-তরাসে
বৃন্দাবনে ফল পাকে সখিগণ একে একে
পক্ষ রাখে গোপীজনা-পাশে।
এ পোড়া নিম্নের দেশ অভিমন্যু দৈন্যবেশ
মনে তবু বসন্তবিলাস
গদাধর নটরূপে কর্মফল, নতশিরে
অদ্যাবধি বড়ু চণ্ডিদাস।
কথার কৌশলে পার সপ্তকণ্ঠে পটূ আর
বৃন্দজন মথুরা ভুলে না
প্রতিশ্রুত আঙিনায় রাধা ফের ফিরে যায়
এ নগরে কানাই মিলে না।
কাব্য রচো বিষাদের বন
বিনা বাক্যে অশ্রু ছাড়ো ধরণীর ফুল ধরে
দ্বিধা হও মাতৃসমা, এত
ফুলের নামের বিশেষণে।
দেখি আজ ফুটে আছে সাহিত্যমালার ফুল
নর্থ ব্রুক হল রোডে
রূপ-রস বিনা আবেদনে।
আর তুমি গেয়ে যাচ্ছো বন্দনাগীতি, প্রাণের
লেক-পার্কে, ঘাসের উপর-
আমি বলি তরুর জীবন;
লিপিবদ্ধ হচ্ছে আজ নেহায়েত প্রয়োজনে
শুধাইলো গুরুভার, কী যে
কাব্য রচো বিষাদের বন!
শুয়ে মাটিতে ও ঘাসে আকাশের শিল্পরূপ
খুঁজো, কুয়াশার উপমায়
মরেছি সন্তাপে, কাব্যদায়ে
ফলত আমার গান বাজে, বিদায়ীর গলে
বিবিধ-বিজ্ঞানে, মাত্রাসহ
অতি পুরাতন শব্দ, লয়ে।
পর্যটক
মৃদুলা তরঙ্গ নয়; হেঁটে হেঁটে দীর্ঘপথ, বক্ররেখা বাতাসের
মজা নেয় সবুজ বৃক্ষেরা
যদিও বর্ধিত শোভা বনমধ্যে, সারি সারি গরান, শিমুল।
তরঙ্গই কামনা তোমার, স্থিতধির পর্যটক
দাঁড়িয়েছ নদীপাড়ে, সমুখেই জলনাচ, সুদূরের অবাধ সুনীল
তরঙ্গ স্বভাবজাত, জেগে ওঠে সখাভাব, তীরে-
একটি নর্তক শুধু উচ্চাশায় মীনের কেতনে।
তরঙ্গেরও থাকে কিছু ঈর্ষারীতি পাহাড়ে পাহাড়ে
নৈঃশব্দ্যের ঝিঁঝিঁট কীর্তনে
এ প্রকাশে মৃদুলা থাকে না, তাই বলি-
যেখানে জ্ঞানের উৎস, সমর্পিত, তুমি যাবে সেখানেই
শিক্ষাকাল ধরে ধরে সমুদ্রে... পাহাড়ে...
অধিক অহিংস-মাত্র জানে, এই কলা শ্রেষ্ঠ থাকে সংগীতেও
মগ্ন হলে টের পাবে তরঙ্গস্বভাব, ভেসে যায় সুরে সুরে
অবসন্ন দেহটির দ্বিধাপাঠ, কামনা যাতনা।
ব্লাকবোর্ড ও ডাস্টার
বিষাক্ত সাপের মতো আমার রক্তে তোমাকে পাবার বাসনা: সমর সেন
এ তোমার সহজাত প্রবণতা, ধরো...
যতোবার তাকিয়েছি ইশকুলে তোমার
দেখেছি শূন্যেই ব্লাকবোর্ড ও ডাস্টার
খেলায় সহাস্যে।
দীপায়নে সাপের ছাতার মধ্যে বসে থাকো রাণী সেজে
একান্তই অনুগত
ভয় নেই সাপের, তুমিই তার বিষ উৎপাদক।
প্রকৃত প্রেমিক দেখো ঘুরছে আজ লোকালয়ে কিন্তু
ব্যক্তিগত রচনাতে উজ্জ্বল থেকেছো আরো বেশি
শূন্যতাই শ্রেয় হলো এত হলুদের সমারোহে!
ফলে বিরচিত হই রচনাপ্রবণ, দেখি- দুরন্ত ইশকুল
ঘুমিয়ে পড়েছে পৃথিবীতে, অন্ধকারে...
অর খেলায়, ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যায় ব্লাকবোর্ড ও ডাস্টার।
তারাজ্ঞান
সূত্রানুসন্ধান করি, আলো হয়ে ফুটেছে কুসুম
সে বহু দূরের দ্বীপে বাস।
তোমার বার্ধক্যজ্ঞানে, বলেছ এ বালখিল্যতা...
যে বৃক্ষে ফলেছে আম্র তাতে ফলে না কাঁঠাল কোনো
মাটির শ্মশ্রুষা নিয়ে জেগেছ পরার্থপর তুমি-
অতঃপর যাহা সত্য জ্বাজল্যমান ও দূরে
তাহা নেড়ে চেড়ে দেখা দুরূহ-বিদুর।
এও বলো, পৃথিবী সে কোনো রহস্যপ্রবণ গাছ
পাতা ঝরে পড়ে, জেগে ওঠে পুনরায়
পেচক, রাত্রির ডালে বসে থাকে বোবা
দীপ্যমান খোলা দুটি চোখ
অথচ তাতেই তুমি ভয়ার্ত থেকেছ, আর জেনেছ আসন্ন
বিপদের সম্ভাবনা কোনো।
আঁধারে তারার চিঠি বেশ স্পষ্ট হয়
কেননা সে নিজস্ব আলোর পূর্ণতায়...
এসে যায় চোখের শয্যায়।
স্বভাব
এ কবিতা সমধিক ব্যঞ্জনায় সঞ্চারিত আজ
তুমি রুখো তার গতিমুখ, তীরে, সকল জিজ্ঞাসা কাফেলার।
কী করে এ সম্ভব যে, ভুলে যাবে নদীর তরঙ্গ
তার আছে সুবিশাল ঢেউয়ের স্বভাব, কালাকাল, ওই যায় ভেসে ভেসে
তুমি স্তব্ধ, সুশীতল ঢেউ গুনে গুনে, বসেছ নদীর ধারে।
এ প্রভাব ফেরানো যাবে না
যেমন শিশুরা খায় দেখে দেখে, বড়দের খাদ্যতালিকায়
জগত মুখরা দেখ, কোলাহল তার প্রভাবের
ধানতে, বালুচর, গাছ, পাখালির উড়োদৃশ্য বাতাসের
সবকিছু আজ পৌঁছে দিচ্ছে বার্তা, দুয়ারে তোমার।
যন্ত্রণায় ছটফটে পাখি মগডালে বসে, প্রজ্ঞা করো বিবিধ মনীষা
নির্জন, একাকী বালচর পার হয়ে হেঁটে গেলে বহুদূর
তোমার চলায় প্রবাহিত নদী, জোয়ারেও ভুলে যায় জলের স্বভাব।
আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা
ফুলের মনীষা পাঠ করি। গন্ধ শুঁকি, শত-বিবরণী ফুলে ফুলে। ভাবি। পৃথিবীর তাবত সুন্দর প্রজ্ঞা-পারমিতা আসলে একটি ফুল। জনান্তিকে কিংবা নির্জনে ফোটা দুর্লভ অলকা। হ্যাঁ অলকা। একটি কবিতা স্মরণে এলো। জয় গোস্বামীর। হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে; অতল, তোমার সাক্ষাত পেয়ে চিনতে পারিনি বলে; হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে।
সম্ভবত অলকার গা থেকে গড়িয়ে পড়া জলে এক কবির হৃদয় ভেসে যায় কিংবা এখানে অলকা একটি নদী বা নদীফুল। আছে, অলকা একটি কবিফুলও। অলকা নন্দিতা। কবি-সমাবেশে নম-শূদ্র আমি যাকে দিদি বলে ডাকি। দীর্ঘদিন পর যার লেখা ঘর, ঘড়ি ও ঘুড়ি আমাকে চমকে দিয়েছে। এটা হয়। কবিতাফুল এ রকম চমকে দেয় মাঝে মাঝে।
আরো একটি ফুলের কবিতা মনে পড়ছে। ফুলকিশোর। সম্ভবত ওই কিশোর আগুনে পুড়ছে আর বঞ্চিত হচ্ছে। টোকন ঠাকুরের লেখা। টোকন-দা ওই কিশোর কী আপনার প্রিয়ফুল কেড়ে নিয়েছিল?
শেষমেশ আরো একটি ফুলের মনীষা। একশলায় একটি গোলাপ। লাল। তুলে এনে আমি যাকে ফেলে দিয়েছি মগড়ার জলে। সম্ভবত পারমিতা-রই প্ররোচনা। অর্থহীন অর্থজ্ঞান। আর বহুদিন পর স্পষ্ট কণ্ঠস্বর। তারই। কল্পনা করছি শাহবাগ, শিশুপার্ক, জাদুঘর। একটি নির্দিষ্ট শপিং প্লেস, কিছু ফাওয়ার শপ। ভেসে আসা কণ্ঠস্বরটি এরকম ছিল না কখনো।
বাথটাব
আগেও বলেছি ফল কীটদষ্ট, গাছপাকা তবু
কে শোনে কার কথা দলে, সবাই নিজের কথা বলে বলে
হয়রান, তুমি শুনলে, শুনেই পাকালে জট, পেটে–
চিনচিনে ব্যথা নিয়ে সোজা টয়লেটে।
শীতল জলের ভাণ্ড, বাথটাব, সুদৃশ্য দেয়াল
মত্ত হলে কর্ণযান, কুহকী ওঙ্কারে...
বলেছ লাগে না তার তুচ্ছকথা চলে অবিরাম
ফলে আরো কিশোর হয়েছ গূঢ় সমুদ্রের জলে।
জল অন্ধ জল বন্ধ জল সূক্ষ জীবনের মানে
মৃতসার, ফেনায় ফেনায় ডুবে লিখে দিলে শেষে তোলপাড়।
একদিকে জলপড়া টুপটাপ, শাওয়ারে বৃষ্টির তর্জন...
আরদিকে পিঁপড়ে-বহড়, ঠোঁটে বিষের কাহিনী, ক্রীড়াছল
এখন নিজেই তুচ্ছ, হচ্ছো তুমি, আড়ালে-আবডালে!
অবনির কড়চা
বুঝেছিস অবনি-
আমরা দিনগুনি
আগত সুখের, মচ্ছবে
বাতাসের ঝুনঝুনি।
কখনও উৎসবে, পার্টিতে
ক্ষুদে কথা, বিধিমালা
দিন-দিনেকের-
তড়িঘড়ি আপ্যায়ন, জনাবের
পিঠাপুলি, পাটিসাপ্টা দেখা হবে
বুকে হাপরের ঝড়ো-ঝাপ্টা।
কথা বলিস কাল, অফিসে
টেলিফোনে, নিত্য হাসফাঁস্
দিন গুনে গুনে রে অবনি
আমাদের ঝুনঝুনি।
কত আসছে, কত যাবে
চাচা দেখ আগে আপন পরাণ-
বুকে আঁটা খিল; পাথরের আজ
কথাগুলো কথা নয় মানুষের
ভোঁদড়ের ঢিল।
রীতি যদি সনাতন
পুনারোপি কাণ্ডজ্ঞান
লোকে-লোকেদের
কান নিয়ে গেছে চিলে
ও ভাই দেখেছিস অবনি
আমরা ধুঁকেছি আকালে।
দেশ নয় হারাবার, বিধি নয় জ্ঞান
কিলিয়েই না হয় পাকালে
কাঁঠাল-ঘণ্টিতে, আহারে অবনি
যথারীতি ঝুনঝুনি।
মহাযোগ
সেতুর প্রসঙ্গ এলো, তাই বলি কাঠ প্রয়োজন, বেঁধে দিতে দুইকূল
ব্যস্তজন, মাঝখানে নদী ভাটিদেশে, থমথম, মীনেদের ঘোরাফেরা
সংযোগে সিদ্ধার্থ মন, পিতৃব্যের প্ররোচনা, স্মরণের বনমালী-বনে।
নদী দিয়ে কত কী না আসে! নৌকাভর্তি স্নেহ-তারল্যের, বৈদেশমনীষা
কোটির গুটিকে থাকে সেতুমর্ম, সব ধর্ম বর্মে নয় অন্তরায়ও কিছু
ফলত যা কিছু অর্থ প্রজ্ঞাজ্ঞান, মূল্যবান, তাতে, ব্যস্ত আজ কাঠুরিয়া।
সেতু হবে, হাট হবে নদীকূলে আর কিছু ঘর নিতিদিন পসরায়
নীতিসহ গ্রামায়ন গ্রামে গ্রামে, দেশায়ন দেশে দেশে আশা-বসতির।
একদিন তাই হলো, হাট এলো, ঘরে-ঘর, লোকালয়, বন বেড়ে গেলো
মহাযোগে কায়াতরু, নগরে নতুন সখ্য, ভাব হলো মানুষে মানুষে
একদিন আরো কিযে হলো! হাতে-হাত, কাঠমুখি হলো আমাদের দিন।
ঘাটশিলা
এই যে হাতির পিঠে চড়ে স্বপ্নজাল, চলে যাচ্ছো দূরে, ময়ূরপুচ্ছের
ডানা আর সিংহ-কেশরের মুষ্টিবদ্ধ হাত, দূরাধিক স্বপ্নকুয়াশায়
আমি দেখি পাললিক ঘাটশিলা, উঁচূ‚ ওই পাহাড়ের জ্বলমান শিখা।
আজ এই চাঁদের ফসিল থেকে ভ্রমণ-নৈবেদ্য এনে ছড়িয়ে দিয়েছ
কী ছিল এমন ঘোর, রাত্রিজ্ঞান, আফ্রো-এশিয়ার হাওয়া, ধূপ-শীতলের
কলরবে মাতোয়ালা, সান্ধ্য-প্রদীপের আলো থেকে পরান্মুখ তন্ময়তা।
পাখ-পাখালির দেশ আমার, ভোরের নির্দেশিকা দেখ কোমলকুহেলী-
পলে পলে, ভাসমান চরাচরে মনসিজ মনীষার ছায়া স্তরে স্তরে।
আমার মুগ্ধতা আমি কী দিয়ে দেখাবো বলো, কী বিশাল নম্র হাকালুকি
কোড়াডাক সন্ধ্যাকালে, মধুর কোমল কলতানে উদ্বেলিত শতদেশ
কিছু ফটোগ্রাফ, ব্যস্ত পর্যটন, দাঁড়াও পথিক মন বসেছে ক্যামেরায়।
এডিডাস
এই শীতে লগবুক আর কিছু নবারুণ, কিশলয় মনে পড়ে গেলো
কফির উতলা ঘ্রাণ, সন্ধ্যার রেলিং ধরে ঔপনিবেশিক ছায়াতল
নাগিব, পামুক, সাত্রে, ঠাকুর, শিম্বোর্স্কা, জুল্লে, এডোনিস উত্তরীয় হাওয়া।
তোমাকে শুইয়ে রেখে মধুর আহ্বান এই বাংলায়, শিশিরে-ঘাসের
জড়িয়ে-ছড়িয়ে আছে কৈশোরক ভোরবেলা, স্মৃতি, একসেট এডিডাস
ছিল স্বপ্ন, হলে ভালো হতো, দৌড়বিদ হওয়া যেত কিনা! কিংবা না হলেও।
কত কী আসবে, যাবে, ভোরের বাগানে তিন পাঁপড়ির নাম না জানা ফুল
হয়ত দেবে না কেউ প্রতিক্ষিত কুয়াশায়, বটতলা, সুমেশ্বরী-তীরে।
এখন নগরে এই ভোরবেলা, বিধিলিপি, স্মৃতিভাঙা দুয়েকটি কাক
শুকনো রুটির ঘরে অচেনা মানুষ, ভেজাপথ, শব্জিহাট সকালের
নিতিদিন কোলাহলে একসেট এডিডাস! বিস্মৃতির! আমার কৈশোরে।
দেহঘড়ি
চৈত্রশেষে বিরল এ হাওয়া, ঝিরিঝিরি, দুলে ওঠছে পাতামন সাইবেরিয়
আমি পাখি হলে বেশ মজা হতো, ওড়ে ওড়ে নীলাকাশ, ঝড়ের সংগ্রহ
ডানাজুড়ে, কিন্তু আমি পাখি নই, ডানা থেকে খসে পড়ছে বিষনিম এক।
এই যদি ক্রীড়া হলো, দেখ গাছালির রীতি, দাহনেও নিরব দাঁড়িয়ে
তোমার দেহেও আছে এ রকম সহন-সহেলী, স্বপ্ন আসে স্বপ্ন যায়
তাকে বলি গুরুগৃহ, বলি দেহী, কই গো তোমার বিষখেলা আগুনের!
আমার কবিতা নয় যন্ত্রণার, না পারার, কথাকলি, হয়ে না ওঠার
বপণের রীতি দেখ, যাকে বলি চাষবাস সেখানেও পীড়ন-প্রণালী।
চৈতালীর তুমুল দাহন শেষে বলি আজ কায়াতরু অধিক নুয়েছে
দেহঘড়ি যে রকম হলে রতিকান্ত, টিকটিক শব্দভুলে নিদ্রা যায়
নিজের কথাই বলি, আমার আমিকে আমি কাউকে দেব না, তোমাকেও।
আজকের ফুল
গতকাল-ফুটে যাওয়া ফুলে
এবং ভবিষ্যতের ফুল বিষয়ক
আমার বিশেষ কোনো কৌতূহল নেই।
প্রতিদিন এই পৃথিবীতে
অজস্র ফুলের কলি ফুটে
গন্ধ-তারতম্যে কোনো কোনো ফুল
মার খেয়ে যায় আর কোনো কোনো ফুল
ওঠে আসে আরো বেশি আবেদনসহ
তোমার টবের শুশ্রূষায়।
গতকাল-ফুটা গন্ধফুলে
এবং ভবিষ্যতের গন্ধফুল নিয়ে
আমার বিশেষ কোনো কৌতূহল নেই
আমি শুধু দেখি, আজকের ফুলটিকে
ফুল বলে চেনা যায় কিনা!
পাতাবৃষ্টি
পাতাবৃষ্টি! বিষ্মিত হয়েছি মেদিনীর অভিধানে
আদ্যন্ত নখর বিষে আমার তুলনা, তবু অধর কাঁপিয়ে দিনমান
ঝুরঝুর পড়ে যাচ্ছে পৃথিবীর সম্ভাবনা সব।
মালা গেঁথে রাহুচণ্ডালের কাকস্যের প্রার্থনায় দাঁড়িয়েছি সূর্যজ্ঞানে...
নিজেরই অঙ্গের শোভা করে ডাকি দেবতা-চৈত্রের।
ভবিতব্য মেনে নেওয়া ভালো-
ঝরে যাওয়া পাতাকাহিনীর অভিধান কোনো সাজানো গাছের
ওসব বাদেও দেখ বেড়ে যায় ঈর্ষার প্রকার।
পাতাবৃষ্টি! আহা রে চৈত্রের বাড়াবাড়ি-
আমাকে শুইয়ে দেয় ভবিতব্যে, বাঁশবনে, এড়াতে পারি না।
প্যাগোডা
খোসা ছাড়ালেই মাংসঢেউ, তরতাজা নিবেদন
শামুক কৌশলে তুমি ডিঙোচ্ছো দেয়াল
কানকোয় ঝড়ের প্রমূর্ত অভিজ্ঞতা।
এ নদী ও নদী, ছোট জলা, তারপর...
প্যাগোডার স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল, শ্যাওলায়
আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধেছ সংসার।
জল, ডাঙা আর এই ভেসে চলা অর্থ-অনর্থের
মেদিনীর সাপ্লিমেন্ট, ব্যাপ্ত গালিচায়।
ঘোর শীত, অঘ্রানের রোদেলা সকালে পাঠরত
অবুঝ আমার শিশু, পড়ছে-
খোসা ছাড়ালেই মাংসঢেউ, তরতাজা নিবেদন।
খোকা
তরুণ রাজনীতিক মাহি বি চৌধুরী-কে
পেছন পেছন আসে, গুনগুন গায়
বন্ধু ওগো... কী করে ভাবলে...
ভাবি, খোকা বুঝি পেছন পেছন চলে আসে কেঁদে
কোলে নিতে যাই-
গৃহিণীর ফেলে যাওয়া নেকলেস, বিবমিষা স্বর্ণের
খোকা কেঁদে যায়
পিছু পিছু প্রলোভন তাড়িয়ে বেড়ায়
নেকলেস, বিবমিষা স্বর্ণের...
আর মরিচিকা?
পেছন পেছন আসে, গুনগুন গায়
বন্ধু ওগো... কী করে ভাবলে...
বড় বড় লোকেদের স্ট্যাটাস সিম্বল
বাগানের ফুল-ফুটা দৃশ্য কিন্তু চমৎকার, তাতে
সৌন্দর্যচেতনা থাকে
যে গৃহে ফুলের উপস্থিতি, তাকে ঘিরে
আমাদের পবিত্রতা খেলা করে মনে।
এইকথা মনে হলো রামপুরা থেকে বাড্ডা হয়ে ফিরে আসবার পথে, রাস্তার দুপাশে কত নির্জন বাড়িতে ঊঁকি দিচ্ছে শত শত ফুল, জলসিক্ত, আহা! ফুলের বাহার। বিকেল-মনীষা তার ছড়িয়েছে প্রভা বিভাজিত ছাদে-বারান্দায়।
কালাকাল এইরূপে প্রজ্ঞাপিত। যোজন-বিজনে মগ্ন যারা, তারা আজ প্রভাময়।
ফুলের বশ্যতা মানি, একদিকে উপমিত কোমলতা আর দিকে পৃথিবীর তাবত বিপ্লব, রূঢ়-বাস্তবতা, সহিংসতায় তুমি নিরব-কঠিন দাঁড়িয়েছ। হরণের জাড্যতায় তুমুল কংগ্রেসী। রিক্সাঅলা বলে, বুঝলেন ভাই এইগুলা হইতাছে বড় বড় লোকেদের সৌন্দর্যচেতনা।
দেখলাম সত্যিই তো! সৌন্দর্যচেতনা...
বড় বড় লোকেদের স্ট্যাটাস সিম্বল।
কাটামুখ
কাটামুখ জ্বালাময়ী রক্তে ও লবণে।
এই তত্ত্বে মর্মাহত, ওষ্ঠাগত প্রাণ ফলে আজ অজ্ঞান হয়েছি
দীর্ঘ প্রণয়ের মোহে, মুখস্থ করেছি সব ধ্বনির জড়তা
তবু আজ, জানাবো না বিবরণ তাকে, অভিমুখ গন্তব্যের...
দিনে দিনে ক্ষারের শুশ্রূষা।
ফলে আজ খাদ্য গ্রহণের কালে, পোড়ামুখ, দৃশ্যাবলি জলে
জেগে ওঠে দ্বিধা ও সংশয়
কুরে খায় নির্ণিমেশ, ভিতরে-বাহিরে।
মহাবাতাসের বার্তা নিয়ে হেঁটে এসে বহুদূর...
সভ্যতার কাহিনী-ব্যঞ্জনা যত, গুপ্ত তড়পানোসহ ত্রস্ত
পিছলে পড়েছে সব এইখানে- ব্যাঘ্রে ও মহিষে
তবে কিনা ডেকেছে গভীরে অরণ্যানী, মোক্ষলাভে-
শস্য-দেবতার মায়া, বাড়ে দেশে দেশে
তবুও যাবে না বলা অমোঘ নিয়তি।
কাটামুখ জ্বালাময়ী রক্তে ও লবণে।
জমা হচ্ছে পাথরের বর
বন্ধু মুন্না, বন্ধুপত্নী রুম্পা ও তাদের কন্যা নাজাত-কে
সারাটি বিকেল জুড়ে এককোটি শাপলার উপস্থিতি
ভরকে দিলো সবুজের চিহ্নায়ন, অলিখিত আমার পয়ার
তোমাদের দুজনকে না বলেই আমি লিখলাম-
নির্জনে কোথাও থমকে থাকা
পুকুর-জলার মতো মজ্জাগত পরিচয়...
বুকে ধরে কখনো বলিনি-
...ফুলকে না বলা কথা।
জনহীন বেলাভূমি কখনোই নয়
তার আরো গভীরে আমার গৃহে
একটু একটু করে জমা হচ্ছে পাথরের বর
আর ছোট ছোট কয়েকটি পাহাড়ের আহামরি...
ধূসর-শীতল কিছু অগণন হাওয়া
গরম কফির ঝোল, হালকা চালে স্মরণ করালো-
গুরু মানে গাঢ় কিছু, আমার পীড়ার মধ্যে
বসবাস, কোনদিন অপাঠ্য করনি।
ডিমপারা কচ্ছপের গেরস্থালি
আমাকে লুকিয়ে ফেলা গেলে ভালো হতো
প্রকাশ্য দিবসে ঘুমে রেখে
স্বপ্নগুলো নিয়ে যাচ্ছে পিপঁড়ের দল
বিষের কারবারী।
হাতদুটো প্রার্থনায় মগ্ন নদীর প্রবহমান জলে
চারদিকব্যাপে মাকড়শার জাল,
কচুরির জটায় ডিমপারা কচ্ছপের গেরস্থালি
বাসা বদলের সম্ভাবনা ভেবে
তুলে আনি ডাঙায়
একি! এতো দেখি সেই নদীর সংগীত
পুরনো দিনের গান, আমাকে বাজায়।
আমাকে লুকিয়ে ফেলা গেলে ভালো হতো
প্রকাশ্য দিবসে ঘুমে রেখে
স্বপ্নগুলো নিয়ে যাচ্ছে পিপঁড়ের দল।
স্বাধিনতা
আলকথা বলি...
যে বার স্বাধিন হলো দেশ
বিজয় বিজয় বলে চিতকারে ফুতকারে-
মেতে ওঠি আমরা কজন, ভোরে; দেখ কী সুন্দর
সূর্য! লাল, আকাশে পাখির ঝাঁক, উড়ে যায় দূর, অজানায়
আমরা কী স্বাধিন তবে? যুদ্ধহীন, বলে কেউ, তুই চলে যা... যা...
হৃদয়ে তরুর দাহ, ক্ষতচিহ্ন, মেয়েটার প্রশ্ন
বাবা বলো, আমরা কী স্বাধিন তবে? যুদ্ধ কই?
মেয়েকে জড়িয়ে বলি ‘বুকে’
মেয়েটা বুঝে না।
শীত নামে ভিখিরিপাড়ায়
আশরাফ রোকন-কে
যদিও বসন্ত আজ প্রচারিত খুব বেশি, দিকে দিকে
পথে, লোকমুখে।
প্রয়োজনে, সুসময়ে বসন্তের উদ্ধৃতি বর্ণনা...
কিন্তু আজ শিশিরের কোমলতা শিহরিত করেছে তোমাকে।
দৃশ্যায়িত এইসব ভাঁটফুল ডোবার-
কিশোরী ধানের মাঠে গমের ব্যঞ্জনা, বেড়ে ওঠা
তথা এই শস্যের পালানে মুগ্ধবত অবনত
সর্ষের কোমল নৃত্যে-
দীর্ঘ দীর্ঘ মাঠ আর আলপথে ঘাসের
স্পর্শানুভূতি, তাড়িয়ে নিলো গ্রামে- অতীতমন্থনে।
ক্যালেন্ডারে দেখেছো শীতমাস এসে গেছে কাছাকাছি
পাতা-কুড়োনীর চোখে ধূসর সন্ধ্যার মুখচ্ছবি
ভীতগ্রস্ত, শীত নামে ভিখিরিপাড়ায়।
ধর্মফল
একটু একটু করে গিলে নিচ্ছো সর্ষের যন্ত্রণা।
তবু বলি, অমৃতের বিষে জরো জরো...
তোমাকে চাইতে আসিনি গোধূলির ফল
কীট ভেবে যদি কেউ মুদ্রা বিনিময়ে
নিয়ে যায় নিজের সন্তাপ
আহতের গীতমালা তাকেই পড়াবো জনান্তিকে।
ওই দেখ সর্ষে পিষে জবুথবু অঙ্কুরিত...
অব্যর্থ আঙুলে আজ মননের মহিমা ঢেলে ঢেলে-
স্নানমুখি, নত, কাঁপা সর্বো কনিষ্টের অকণ্ঠ যমুনা!
একটু একটু করে গিলে নিচ্ছো সর্ষের যন্ত্রণা
তোমাকেই কিনা প্রণমিত ভাবি আমি
উত্তপ্ত মোহনা,
করুণ দগ্ধতা; মাতৃ-রূপিনীর বেদনার ভাষা
ছোট ছোট সাজিয়ে রেখেছি পথে পথে
অনুভূতিহীন ধর্মফল!
তোমাকে চাইতে হয়- হাস্যকর!
আমার যে ধ্বনি ছিল
বিবরণে জেনেছি সামান্য, সামান্যই ছিল ঘটন-রটনা
আসবে আসবে বলে পায়ে ফুটে গেল কালোপিপঁড়ের বিষ
কাঁকড়ার উপমায় যে প্রকারে ব্যবচ্ছেদ হয়-
তোমাদের চাল-সুপারির কটকট ধ্বনি দাঁতের মর্মরে।
আমার যে ধ্বনি ছিল, নিচুস্বর, কাঁপা-ভীরু, উচাটন টানে
ক্রমে ক্ষীণ হয়ে এলো আরো, রাখো তবু আবেদন
বরাবর দাহিকাবিবর-
পুনরায় কে পালালো গ্রামদেশ ছেড়ে?
ভয় একটাই, সবুজের, মর্তপুরুষের; দিকে দিকে তারই জয়ধ্বনি।
তরল পচাইয়ে মগ্ন যারা
তারা জানে ইতিহাস, সংগীতের, গভীর স্বপ্নের।
দোলনায় দোলা কার্যরত কোমলতা একজন, যথারীতি সনাতন।
দীনশরত, আমাকে
এই মেঘ, রৌদ্র আর শরতের গল্পগুলি সময় সময়
ব্যস্ত রাখে দুরন্তের, শৈশবের, পোড়ায়, পোড়াতে চায়।
ল্যুভর মিউজিয়মে চিত্রশরতের বাঁকা হাসি, মুগ্ধবশ
একবার হাসে মোনালিসা
আর বীতনাথ, গ্রাম অডিটের মেয়ে নিশা।
পর্যটকের মোহ ভেঙে পেরে ওঠা কিশোরের বড়শির ছিপ
দণ্ড ভুলে দুরন্ত একটি মাছ... লাফালাফি...
নন্দনভাবনা, ঠোঁট কামড়ের মেঘ, বৃষ্টিতে কাঁশফুল
ধোঁয়াশায় দীনশরত, আমাকে ব্যস্ত রাখে, পোড়ায়, পোড়াতে চায়।
খরস্রোতা নদীটির শান্তজল, থমথম, নরম কাঁশফুল
মেঘের বৃষ্টিতে বানিশান্তা চিন্তালয়, ধোঁয়াশার আকিঞ্জন
জেগে ওঠছে কাঁশের মেয়ে রিবড্ সেনসেশন।
চেতনায় খুদকুটে ডানাখুটা শাদা কবুতর...
আর এক বীতনাত, পল্লিতে-বার্তায়, ধোঁয়াশায়
দীনশরত, আমাকে ব্যস্ত রাখে আরো, পোড়ায়, পোড়াতে চায়।
কোকিল
ডেকেছে বসন্তে, বনে বনে লোকালয়ে
ইথার কাঁপিয়ে-
বরাবরই সুমধুর গলা-বলে অধিক প্রশংস পাখিকুলে
আমি করি পার্থক্য রচনা
দেখাও তো দেখাও তো মিতায় বন্যায়
মিলে যায় কিনা-
শাস্ত্রীয় সংগীতে কিংবা তারানায়
সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলই শোনো শোনো পিতা
জনারণ্যে বিবৃত রয়েছে
পাখিরাই শ্রেষ্ঠ সুরকার সংগীতের...
আদিতেও দেখ
যখন ছিলে না তুমি বনবংশে
কোকিলের সংগীতেই মুগ্ধ ছিল বনসম্প্রদায়
উত্তরে-দক্ষিণে-পুবে, ঈশান-নৈঋৃতে
দশদিকব্যাপে তার সংগীত চারণ-
তোমার দস্যুতা দেখে ক্রমে সরে গেছে
প্রতীকবিশ্বের গূঢ় তেজস্বীমথুরা সংগীতের...
পরম্পরা
মনে হয় ধারণার মধ্যে কোন এক
সমুদ্র বিস্তার করেছিল,
আর আমি রচনা সম্ভারে আরো নত
হয়েছি কেবল কবিতা কবিতা বলে।
পিতামহ_ তার দীর্ঘছায়া সুতো টেনে
আনিয়াছিলেন পিতৃদেব,
তারা চাষ করেছিলো শস্যের মহিমা
মানুষের প্রতি ভালোবাসা।
গেরস্থালি সূত্র ধরে একদিন সকলে
ঘরে ফিরে যায়
পথ ভুলে আমিও গিয়েছি কিন্তু
যে পথে যায় না আর কেউ।
পাতার জীবনী
মেঘেদের কলেজের পাশে বসে বলা-
নন্দনতত্ত্বের গল্পগুলি ম্লান হচ্ছে রোদে পুড়ে।
এখন কে তোমাকে বলেছে
সমুদ্রের মন্থরতা
তর্জন-গর্জন শেষে সমুদ্রও কোথাও কোথাও
বিরূপ চেয়েছে ওই পাহাড়ের মতো
দাঁড়িয়ে গুনতে নিস্তব্ধতা।
বরং এটুকু সার্থকতা শিখে এসো
পাতার জীবনী পড়ে
কী করে সবুজ থেকে থেকে
মলিনতাগুলি লিপিবদ্ধ হচ্ছে চৈত্রের দিবসে।
দারুণ অবহেলায় পড়ে আছে যে শুকনো পাতা
আমার জীবনী পাঠে এর চেয়ে কোনো-
সুন্দর উপমা নেই পৃথিবীতে।
সরল সমীকরণ
মানচিত্র দেখেই কাঁপছি, এত জটিল রেখার কারুকাজ
রেখার গভীরে আরো রেখা তবে কিনা
চোখ-বুঁজে ভেবেছি সহজ, ফলে তোমাকে লিখেছি
অজ্ঞানতা, অন্ধ বর্ণমালা।
যে ভেবেছে সরল সমীকরণ ভুল ব্যাকরণে
তাকে দিও পত্রালীর ছায়া, জমিনের মালিকানা আর
প্রবেশাধিকার নগরীর রূদ্ধদ্বারে
দেখো বুঝে নেবে ঠিকঠাক জল-শোষণের তাবত হিসাব।
কফিনে যায় না একা কোনো প্রাণ
সাথে থাকে জলে-ডুবে মরা অজস্র মৃত্যুর গান।
সবুজ মাঠের পাশে হেঁটে যেতে যেতে
যে বলেছে সুজলা সুফলা আজ হয়েছে বিলীন
সেই শুধু জানে সবুজের মানচিত্র
সহজ ছিল না কোনো কালে
যাও দেখে আসো গিয়ে শুক্রনদী পার হয়ে।
খননের প্রয়োজনে
জেগে আছি মৃতের চেতনে, রূঢ়দ্বার ভেঙে ভেঙে
জারুলের বন থেকে উঠে এসেছিলে
জবাববিহীন এক বিপরীত সভ্যতায়
আরাধ্য কংক্রিটে।
বালিয়াড়ি ভাঙা জাহাজের পিছে পিছে
চলে গেছো নাবিকের গৃহে
অচেনা ভোরের সমাধিতে, ফুলে ফুলে
তৃণদের উপমাবিহীন এই শহর একদিন
নেমে যাবে পুরোনোর মাঝে, কয়লার স্তুপে
ধাতুতে ধাতুতে।
দূরে কুয়াশার সেতু পার হয়ে তুমি চলে গেছ
সাতটি তারার চক্রবালে-
আমাকে দিয়েছো ফেলে জনমধ্যে খননের প্রয়োজনে
সভ্যতার কোণে।
মরেছো উদ্ভিদ-জালে
ছড়িয়ে রেখেছি গৃহে- সহজ কথাটি
এত টানা-ছেঁড়া তবু প্রাণ যায় ঘাস-ফড়িঙের
লেজে; ক্ষুদ্রকীটে ডুবে মরা।
তারার ব্যাপ্তিতে তুমি জেগে ওঠো ধাতু, স্বপ্নপরী
ফুল বেঁচে যাক এইসব কোমলতা
ভোরের রঙিন সূর্যোদয়ে আর পাখিদের কণ্ঠে
শোভা পায় নিরস্ত্র ললিতকলা; বাদ্যের মন্ত্রণা।
মরেছো উদ্ভিদ-জালে, গূঢ়তত্ত্বে; দৈব প্ররোচনা বাজে কানে
দৈবের আগুনে নয় সহজিয়া কলা
তাপিত জলের স্তুতি, পতঙ্গের গান
খেলা শেষে পতঙ্গপ্রবণ শিশু অবাক সকালে
ব্যবহৃত হও মরাকাঠ, কয়লার ইতিহাসে।
ফুলের বাণিজ্য
ফুলের প্রত্যক্ষ চাষে শিশুবোধ লুপ্ত হয়ে যায়।
শিশুদের শিক্ষাদানে ব্যবহৃত প্রথম বর্ণই চিত্রকলা
ফুল ধরে ধরে তুমি শিশুদের শেখাচ্ছো ফুলের
গন্ধ বিবরণ;
তবুও শিক্ষার প্রশ্নে
যে সব চিত্রের ব্যাখ্যা করি আজ জড়তাপ্রসূত
সে তো অবয়বহীন শূন্যকায় দ্বিধা।
ক্যানভাসে ঝরাফুলে বেদনা থাকে না
প্রজাপতি বসে না কখনো ক্যানভাসে আঁকা ফুলে
এইভেবে ফুলচাষ করে বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখে কেহ কেহ
ফলে প্রতিদিন পথে নেমে দেখি কত মৃতফুল!
এইসব প্রত্যক্ষ মৃত্যুতে বিরহিত থাকে মন।
একথা জেনেও তবু ফুলের বাণিজ্যে কিছুলোক
সম্ভাবনা দেখে প্রতিদিন।
জলহীন সমুদ্র সমুদ্র নয়
প্রকৃত প্রস্তাবে ডাক কেউ শোনে? তবে কেনো-
বলে থাকো ডাকের মহিমা...
যদি সে ফিরে না চায় সাধনার ফল
বোবা-কালা ধুলায় লুটায় অনুতাপে
অনুযোগে তবু বলে রাখো তত্ত্বগূঢ় আলোচনা
সম্মুখ ভাষণে।
সমুদ্রে সকল ডাক অনর্থ-চিৎকার, এইকথা
জেনেও বলেছ তুমি সমুদ্র-কে মানো
উপেক্ষার ভাষা বুকে নিয়ে
সরল সমুদ্র আজ হয়েছে বিশাল।
গোলাপ ফুলের কথা ভেবে দেখো, সুবাসিত ঘ্রাণ আর
কোমলতা না হলে কী, দিতে তুমি তোমার প্রণয়!
যতই সমুদ্র বলো জলহীন সমুদ্র সমুদ্র নয়
খরা-পোড়া নিম্নাঞ্চল শুধু
আকাশের পতিত বৃষ্টির জল ডেকেছে নিরবে।
গোপনে জ্যোৎস্না বিক্রি করি
কোনো এক অন্ধকার বিষয়ক কথা চলছিলো
পাশে, চুপি চুপি একজন অহেতুক দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আমরা আলোতে ভয় পাই- এই বলে...
কোথা হতে তবে ঢুকে পড়েছে রে আলো
চারিদিকে এত পরিবেশ- সামাজিক
এইসব চোখে চোখে রেখে তুমি বলো
এতগুলা পশ্চাদের গন্ধ বড় বিশ্রি লাগে আজ।
দেশে খালি চুরি!
পুলিশের ভয়ে-
গোপনে জ্যোৎস্না বিক্রি করি।
ঈর্ষা
ঈর্ষার নিচেই দেখো লুকিয়ে রয়েছে লজ্জা
হীনমন্যতা, সম্ভ্রম।
নীতিশাস্ত্র গীতিশাস্ত্র পাঠ হয়ে গেলে
একদিন ফুলের সৌন্দর্যে তবু ঈর্ষান্বিত হলে
বৃরে শরীর থেকে এরকম প্রস্ফূটিত হয়
যা কিনা তোমার পক্ষে সম্ভব ছিল না কোনদিন।
পাড়ায় পাড়ায় আজ প্রচারিত হচ্ছে
যে গাছে অধিক পাতা ও গোছানো থাকে
তা দেখেও ঈর্ষান্বিত হয়ে যায় পথের মানুষ।
মোমাখ্যান
আগুনের কাছাকাছি মোম কিন্তু আপনাতেই গলমান
পুড়ে পুড়ে নিজে প্রসারিত করেছে আলোক বিভা
দেহখানি পুড়েছে উত্তাপে,
যদিও প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত ফলাফল আলোক প্রদান
আর তাতে পোড়ালো সে আপন ভুবন।
জ্বলো কিংবা জ্বালো উজ্জ্বল আলোর সম্ভাবনা ভেবে
যেরূপ দিয়েছ ভরে সুতোখানি মোমের গভীরে
সেমতো আলোর নিশ্চয়তা পাবে প্রতারণাহীন
বরং সলতে ব্যবহারে আছে যত জটিলতা
তার ফলে চেনা যায় ভুল কারিগর।
আগুনের কাছাকাছি মোম শুধু গলমান নিজেকে পুড়িয়ে
কারুময় আলোর সাক্ষর বলে দেবে
মোমের শরীর ভেদে-
কতটা আলোর প্রকাশক তুমি সুতো ব্যবহারে।
পরিবেশ পরিচিতি ছায়া
তন্ময় হয়েছ পথে, এতো আলো! উপচে পড়েছে
সূর্যের প্রসার।
আলোর সম্প্রসারণে মুগ্ধতাই বাড়ে গৃহে গৃহে
তুমি কিনা ছায়া দেখে দূরত্ব মাপছো
মানুষ ও ছায়া আর যত আছে সম্পর্কের সেতু
তারও চেয়ে প্রমাণিত থাকে সব বৈপরিত্ব,
ভেতরে তোমার।
এই বাক্যে, জটিলতা তোমারই বেড়েছে
কেননা দেখো যে, আলো কিংবা ছায়া আজ
প্রয়োজনে ব্যবহৃত তোমারই গভীরে।
যে আলোর বৈপরীত্য আজ, দেখছো দিনে ও রাতে
সে কেবল চোখের সাম্রাজ্যে প্রকাশিত
ভিন্ন ভিন্ন কারুকাজে।
বোবাফুল
কণ্ঠ নেই আগুনের গৃহে স্তব্ধতা-গমন আর
এমন আঁধার হয়ে নক্ষত্রকে করেছ সন্দেহী,
লুকিয়ে রয়েছ তুমি; ছোট ছোট তারাপথ থেকে
তোমার প্রত্যাগমন, সেকথা ভেবেই একদিন
ভাবতে বসেছি শুধু প্রকাশ্যে রেখেছ চোখ আর
বাদবাকি অপ্রকাশ্যে রেখে দিলে বিবৃতিবিহীন।
সামান্য বৃত্তান্ত ছাড়া তোমার কি নাম? সে কথাও
আড়ালে আড়ালে আজ গুঞ্জরিত হয়, শিশুঘুম
নামে যদি চিনে ফেলি তবে ভুল চেনা হবে, যদি
না জানি তোমার সেই বালিকা বয়স? ঋতুবতী?
যেভাবে কেটেছে দিন পাগলের মত নেচে নেচে
সেই রহস্যের দ্বার উন্মোচিত করে, আমি আজ
গভীর আঁধার রাতে, দেখে ফেলি ঠাহরবিদ্যায়
ফুটে আছো বোকাসোকা, তুমি এক পর্বত-চূড়োয়।
দি পোয়েট্রি: সার্কুলেশন অব রেইন
সশব্দ বৃষ্টির প্রশ্নে তোমার ড্রইংরুম বেশ মুখরিত
সাউন্ড সিস্টেমে।
বুলেটপ্রুফ বাসায় বসে বসে দেখছো চ্যানেলে
অঝোর ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে, বাইরে গাড়ির শব্দ
পরিস্কার বৃষ্টির বর্ষণে সিক্ত তোমার শরীর
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে যেরূপ আন্দোলিত পাতার শরীর।
ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম ভেদ করে
গ্রামে গ্রামে বৃষ্টি হচ্ছে অফুরাণ- তার ধারাপাত
রেইন সার্কুলেশন, আমি শিখি ছাগল তাড়ানো এক
কিশোরীর থেকে...
তার চোখে আন্দোলিত সহস্র বৃষ্টির প্রকাশনা।
রোমান্টিক-চর্চা কেন্দ্র
বৃষ্টি বিষয়ক এত এত উত্তেজনা দেশে দেশে
আর বাঙলা প্লাটফর্ম খালি বৃষ্টি ভয়ে-
এই কর্মশালা শেষে কজন সফল অভিজ্ঞানে?
নিশ্চিত রাত্রিকে তারা ছড়িয়ে বসেছে অন্ধকারে
পাতিলের তলানিতে আলোর পসরা
কিন্তু এই শত শত তারার বাজার
দিকে দিকে স্টেশন মাস্টার...
প্লাটফর্ম ছেড়ে বহুদূর গেছে ট্রেন যাত্রীসহ
এখনো হেডলাইটগুলো জ্বলে, আহা!
চারিদিকে কত শত বর্ষারূপ দোহারে রচনা।
কুপিবাতিসহ বৃদ্ধা, অপেক্ষমাণ পুরনো গৃহ
ফিরে আসা সন্তানের চোখে প্রতিক্ষার শিহরণ
একদিন এই বঙ্গদেশে বৃষ্টি হবে
রোমান্টিক-চর্চা কেন্দ্রগুলা ভিজে যাবে।
মহাদেশ
প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত এক মানুষের পাশে বসে থেকে
ক্রমাগত খেয়ে যাচ্ছি আমি, মৃত মানুষের মাংস...
ভীষণ ঘৃণার মতো আর এক টেনারির বর্জ্য
আমাকে ভাসিয়ে নিচ্ছে সমুদ্রের ঠিক মাঝখানে
গভীরে কোথাও এক পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে
বহুদূর সভ্যতার পদধ্বনি শুনতে শুনতে
সভ্যতার এক কোণে রক্তের কণার মতো একা
বিলবোর্ডে লেখা শব্দগুলো সহায়-সম্বলহীন
তড়পাচ্ছে তড়পাচ্ছে কী যে দোটানায় ঝুলে আছে
আমার মাংসের টুকরো, রক্তচক্ষু, পাখির কণ্ঠও...
ভেদ করে এদিকে আসে না রোদ, এমন নির্জন!
একটি তারাও আর চিহ্নায়িত হচ্ছে না আকাশে
কে আমাকে চালিত করেছে তবে বিষের ডানায়?
তবুও চলেছ তপ্তলাভাপথে
সহস্র বর্ষের কথা আর পূর্ব-পুরুষের শ্রমনিষ্ঠাসহ
বেরিয়ে এসেছো ভোরে, কুয়াশাসকালে
অচেনা বাতাস যার কোনো রঙ নেই
অনুভূতি ছাড়া।
তুমি সে গুপ্তঘাতক সবুজ সূর্যের হত্যাকারী
পরগাছা হয়ে আজ মেরে যাচ্ছো
কচি কচি ডানা অন্ধরাত্রে।
যতোবার শুনেছি কাহিনী, উপকথা-
মুগ্ধ শ্রবণের গ্লানি, দিনে দিনে ইন্দ্রিয় প্রসার
দৃষ্টিকাতরতা ফলে আজ অন্ধ তুমি
তবুও চলেছ তপ্তলাভাপথে।
পায়ে চলা পথে শুধু, চলে যাচ্ছে ঘাসের শ্মশ্রূষা
মরেছে উদ্ভিদ, বিশেষত স্বচ্ছ আর কিছুই হচ্ছে না জানা।
গূঢ় এক মনুমেন্ট
পুনরায় মৃদু বর্ষারূপ চেতনবিজ্ঞানে, আষাঢ়ষ্য অমোঘ দিবসে
গূঢ় এক মনুমেন্ট তার রূঢ় শিরদাঁড়া, উঁচু ওই আকাশের বৃষ্টি ডেকে আনে
শৈশবের স্কুলঘরে ভীতি, ভিজে চরাচর, অন্ধ প্রতিবেশ
কোনোদিন মনেও ধরেনি মেঘ, আহা বর্ষা! বাঁদাড়ে-টিলায় অবিরাম।
ভিজছে পতাকা একা, মননের বর্ষা নেই প্রতীতিরা আছে
গৃহমুখি কয়টি কিশোরী ছাত্রী উচাটন মফস্বলে, তারা
আগুনের বেসাতিতে বর্ষারূপ, বুকে ধরে বাংলাদেশ ভিজিয়ে চলেছে।
এম কে সি এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় আর কি কি যেন শিক্ষালয়
বর্ষার ক্রীড়ায়, আজও, কারা কারা আসে ভিজেদের দলে, নতুন শিক্ষিকা
গূঢ় কালা-বরিষায়, মানকচু’র পাতা আছে, আয়
মাথা খেয়ে ডাকছি কালা রে...
ভীতিটিতি ভেঙে আয়, দেবো তোকে দেহের গরম।
দৃষ্টিসীমা ভেদ করে, গোপাট উজার করে বর্ষাধারা অবিরাম, পাশে
শস্যমাঠে, নুয়ে পড়েছে কাকতাড়ুয়া–
কলাগাছের ভেলায় চঞ্চলতা, ডুবো-সাঁতারের ব্যাকুলতা, কালাজ্বর
কেবল ভাণুদা বসে একা, দূরদর্শি, দূরকল্পে ভীতিহীন।
গূঢ় এক মনুমেন্ট তার রূঢ় শিরদাঁড়া, উঁচু ওই আকাশের বৃষ্টি ডেকে আনে
আহা বর্ষা! কোনোদিন মনেও ধরেনি মেঘ, বাঁদাড়ে-টিলায় অবিরাম।
সারাবেলা অগ্নিত আলেয়া
লাভালাভ বিষয়ের, কেনোদিন হিসেব করনি তালগোল
আপ্তবাক্য খ্যাদ্যাভাব, মূর্তমান দেশে–
আর তুমি ব্যাপ্ত হলে সূ টান, তার নিচে আর্ত-পরিত্রাণ
ব্যাকুলের, মরিয়া হয়েছ।
কিন্তু হায়! এরূপ বলনি মূলভাব, খাদ্যসার, এই হলো
আত্মভোলা মানুষের নিধি চিরকাল।
পরিস্কার ধারণা নিয়েও স্থিতধির, প্রজ্ঞারূপ, জবুথবু
মাটিতে করিনি চাষ হৃদয়ের, দূরে রেখে প্রাণমন চিলের ব্যাখ্যায়।
লাভ নেই, তৃষ্ণাকুল, খেলা বেড়ে যায় রোপণের অন্বেষায়
মনে পড়ে তার হাত, কিছু না বলেও সুষমায়...
একদিন ধীর, জিজ্ঞাসায়, ঢুকে গিয়েছিল গভীরে মাটির
তাতে ফল, ফুল, তরুলতা সবই ছিল ঝাঁকেঝাঁকে, কল্পময়।
মিছেমিছি ভ্রান্তিরূপ, কি হেতু চিত্রের? বারান্দায় প্রজ্ঞারত
বলো আর কাকে ছেড়ে ভাবো তুমি সারাবেলা অগ্নিত আলেয়া?
দেখ সবুজের বন। তৃণমূল। গরুগুলি। ঘাসগুলি। ওসব থোড়াই।
মানচিত্র
কতিপয় সুরের সন্ত্রাস ছোট্ট চালাঘরে, ঝুলন্ত বাঁদাড়ে
ভাঙাচুরা, তবু কতগুলা তারা পপাত করে।
সসতর্ক মনচোরা! ঢুকলো কী করে? কোন ফাঁকে?
গুরুর চরণে পড়ি জিজ্ঞাসিব আজ, এইরূপ ক্রীড়া হয়?
আমি ভাবি কাণ্ড-মূল! এক, আপনি দেখি শতেক।
অদৃশ্যে আছেন? সেই ভালো, বর্ণজ্ঞান স্মরণের...
সে এক রাত্রির কথা, পিছু ছার্বেন না, ছেড়ে দিলে মরে যাবো।
একটি কথার ফুল মনে ধরে মেঘ! লীলাময়
ক্ষাণিক বিরতি, ফের বাজে, এনে দেন এনে দেন দেখি তারে
কালা কাজলের রাগ, তাজা-সিক্ত ফুল তার কায়া-প্রতিমায়।
অসময়ে সেই মেঘ! কী জানি কী হয়, বুক ধুকপুক করে
মানচিত্র থেকে নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে, গুরু, আর কতদূরে?
অচ্ছুত অনার্য এক পেয়েছে সোনার চুরি
এই নিয়ে আদিখ্যেতা দেশে
সন্নিকট কাকিল্ল্যায় শ্রীনাথ মুখোপাধ্যায়
অধিকারে ছিল, মহাশেষে।
শ্রীনিবাস আচার্যের বংশধর দৌহিত্রের
পুঁথি নিয়ে বসন্তরঞ্জন
বিবরিলা কংশরাজ বিরচিত চণ্ডিদাস
শ্রীসন্দর্ভ এ কৃষ্ণকীর্তন।
নিষেধ রয়েছে স্তনে নখাঘাত, আইহনে
ধ্বংস হবে মথুরানগর
দেবতা বিরুদ্ধ হলে বাসলী চরণ ভুলে
চণ্ডিদাস বনবিষ্ণুপুর।
রাধাবুলি আনঘাটে বর্ষায়, আনন্দে হাটে
কৃষ্ণচিত্ত বিবিধ প্রকার
মহাদানী যমুনায় গোপীজন মজে তায়
আলিঙ্গনে বড়ায়ি প্রখর।
কোড়ারাগ একতালী সরস বচন বুলি
বাঁশি নাম জপে রাধা রাধা
আধেক প্রণয় গুণে সখিগণ সুবচনে
আইহন-মায়ে করে বাধা।
কৃষ্ণবিনা যুগযুগ মদন পীড়িতা রাধা
উতলা, যমুনা নদীকূলে
বৃদ্ধার চাতুরি দেখে ছলায় নন্দন বিকে
কৃষ্ণবাঁশি চুরি কুম্ভজলে।
বিমনা তরলা মতি ক্রীড়াকর্মে সূক্ষ অতি
কৃষ্ণবিনা না বুঝে আকার
সময় করাত-কলে কানাই বিভ্রমে ফেলে
ধর্মাধর্ম, রাধা অভিসার।
মাতৃভ্রমে কংসরাজ বিপাকে পড়িলো তাজ
গুরুসঙ্গ বিলম্ব-তরাসে
বৃন্দাবনে ফল পাকে সখিগণ একে একে
পক্ষ রাখে গোপীজনা-পাশে।
এ পোড়া নিম্নের দেশ অভিমন্যু দৈন্যবেশ
মনে তবু বসন্তবিলাস
গদাধর নটরূপে কর্মফল, নতশিরে
অদ্যাবধি বড়ু চণ্ডিদাস।
কথার কৌশলে পার সপ্তকণ্ঠে পটূ আর
বৃন্দজন মথুরা ভুলে না
প্রতিশ্রুত আঙিনায় রাধা ফের ফিরে যায়
এ নগরে কানাই মিলে না।
কাব্য রচো বিষাদের বন
বিনা বাক্যে অশ্রু ছাড়ো ধরণীর ফুল ধরে
দ্বিধা হও মাতৃসমা, এত
ফুলের নামের বিশেষণে।
দেখি আজ ফুটে আছে সাহিত্যমালার ফুল
নর্থ ব্রুক হল রোডে
রূপ-রস বিনা আবেদনে।
আর তুমি গেয়ে যাচ্ছো বন্দনাগীতি, প্রাণের
লেক-পার্কে, ঘাসের উপর-
আমি বলি তরুর জীবন;
লিপিবদ্ধ হচ্ছে আজ নেহায়েত প্রয়োজনে
শুধাইলো গুরুভার, কী যে
কাব্য রচো বিষাদের বন!
শুয়ে মাটিতে ও ঘাসে আকাশের শিল্পরূপ
খুঁজো, কুয়াশার উপমায়
মরেছি সন্তাপে, কাব্যদায়ে
ফলত আমার গান বাজে, বিদায়ীর গলে
বিবিধ-বিজ্ঞানে, মাত্রাসহ
অতি পুরাতন শব্দ, লয়ে।
পর্যটক
মৃদুলা তরঙ্গ নয়; হেঁটে হেঁটে দীর্ঘপথ, বক্ররেখা বাতাসের
মজা নেয় সবুজ বৃক্ষেরা
যদিও বর্ধিত শোভা বনমধ্যে, সারি সারি গরান, শিমুল।
তরঙ্গই কামনা তোমার, স্থিতধির পর্যটক
দাঁড়িয়েছ নদীপাড়ে, সমুখেই জলনাচ, সুদূরের অবাধ সুনীল
তরঙ্গ স্বভাবজাত, জেগে ওঠে সখাভাব, তীরে-
একটি নর্তক শুধু উচ্চাশায় মীনের কেতনে।
তরঙ্গেরও থাকে কিছু ঈর্ষারীতি পাহাড়ে পাহাড়ে
নৈঃশব্দ্যের ঝিঁঝিঁট কীর্তনে
এ প্রকাশে মৃদুলা থাকে না, তাই বলি-
যেখানে জ্ঞানের উৎস, সমর্পিত, তুমি যাবে সেখানেই
শিক্ষাকাল ধরে ধরে সমুদ্রে... পাহাড়ে...
অধিক অহিংস-মাত্র জানে, এই কলা শ্রেষ্ঠ থাকে সংগীতেও
মগ্ন হলে টের পাবে তরঙ্গস্বভাব, ভেসে যায় সুরে সুরে
অবসন্ন দেহটির দ্বিধাপাঠ, কামনা যাতনা।
ব্লাকবোর্ড ও ডাস্টার
বিষাক্ত সাপের মতো আমার রক্তে তোমাকে পাবার বাসনা: সমর সেন
এ তোমার সহজাত প্রবণতা, ধরো...
যতোবার তাকিয়েছি ইশকুলে তোমার
দেখেছি শূন্যেই ব্লাকবোর্ড ও ডাস্টার
খেলায় সহাস্যে।
দীপায়নে সাপের ছাতার মধ্যে বসে থাকো রাণী সেজে
একান্তই অনুগত
ভয় নেই সাপের, তুমিই তার বিষ উৎপাদক।
প্রকৃত প্রেমিক দেখো ঘুরছে আজ লোকালয়ে কিন্তু
ব্যক্তিগত রচনাতে উজ্জ্বল থেকেছো আরো বেশি
শূন্যতাই শ্রেয় হলো এত হলুদের সমারোহে!
ফলে বিরচিত হই রচনাপ্রবণ, দেখি- দুরন্ত ইশকুল
ঘুমিয়ে পড়েছে পৃথিবীতে, অন্ধকারে...
অর খেলায়, ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যায় ব্লাকবোর্ড ও ডাস্টার।
তারাজ্ঞান
সূত্রানুসন্ধান করি, আলো হয়ে ফুটেছে কুসুম
সে বহু দূরের দ্বীপে বাস।
তোমার বার্ধক্যজ্ঞানে, বলেছ এ বালখিল্যতা...
যে বৃক্ষে ফলেছে আম্র তাতে ফলে না কাঁঠাল কোনো
মাটির শ্মশ্রুষা নিয়ে জেগেছ পরার্থপর তুমি-
অতঃপর যাহা সত্য জ্বাজল্যমান ও দূরে
তাহা নেড়ে চেড়ে দেখা দুরূহ-বিদুর।
এও বলো, পৃথিবী সে কোনো রহস্যপ্রবণ গাছ
পাতা ঝরে পড়ে, জেগে ওঠে পুনরায়
পেচক, রাত্রির ডালে বসে থাকে বোবা
দীপ্যমান খোলা দুটি চোখ
অথচ তাতেই তুমি ভয়ার্ত থেকেছ, আর জেনেছ আসন্ন
বিপদের সম্ভাবনা কোনো।
আঁধারে তারার চিঠি বেশ স্পষ্ট হয়
কেননা সে নিজস্ব আলোর পূর্ণতায়...
এসে যায় চোখের শয্যায়।
স্বভাব
এ কবিতা সমধিক ব্যঞ্জনায় সঞ্চারিত আজ
তুমি রুখো তার গতিমুখ, তীরে, সকল জিজ্ঞাসা কাফেলার।
কী করে এ সম্ভব যে, ভুলে যাবে নদীর তরঙ্গ
তার আছে সুবিশাল ঢেউয়ের স্বভাব, কালাকাল, ওই যায় ভেসে ভেসে
তুমি স্তব্ধ, সুশীতল ঢেউ গুনে গুনে, বসেছ নদীর ধারে।
এ প্রভাব ফেরানো যাবে না
যেমন শিশুরা খায় দেখে দেখে, বড়দের খাদ্যতালিকায়
জগত মুখরা দেখ, কোলাহল তার প্রভাবের
ধানতে, বালুচর, গাছ, পাখালির উড়োদৃশ্য বাতাসের
সবকিছু আজ পৌঁছে দিচ্ছে বার্তা, দুয়ারে তোমার।
যন্ত্রণায় ছটফটে পাখি মগডালে বসে, প্রজ্ঞা করো বিবিধ মনীষা
নির্জন, একাকী বালচর পার হয়ে হেঁটে গেলে বহুদূর
তোমার চলায় প্রবাহিত নদী, জোয়ারেও ভুলে যায় জলের স্বভাব।
আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা
ফুলের মনীষা পাঠ করি। গন্ধ শুঁকি, শত-বিবরণী ফুলে ফুলে। ভাবি। পৃথিবীর তাবত সুন্দর প্রজ্ঞা-পারমিতা আসলে একটি ফুল। জনান্তিকে কিংবা নির্জনে ফোটা দুর্লভ অলকা। হ্যাঁ অলকা। একটি কবিতা স্মরণে এলো। জয় গোস্বামীর। হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে; অতল, তোমার সাক্ষাত পেয়ে চিনতে পারিনি বলে; হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে।
সম্ভবত অলকার গা থেকে গড়িয়ে পড়া জলে এক কবির হৃদয় ভেসে যায় কিংবা এখানে অলকা একটি নদী বা নদীফুল। আছে, অলকা একটি কবিফুলও। অলকা নন্দিতা। কবি-সমাবেশে নম-শূদ্র আমি যাকে দিদি বলে ডাকি। দীর্ঘদিন পর যার লেখা ঘর, ঘড়ি ও ঘুড়ি আমাকে চমকে দিয়েছে। এটা হয়। কবিতাফুল এ রকম চমকে দেয় মাঝে মাঝে।
আরো একটি ফুলের কবিতা মনে পড়ছে। ফুলকিশোর। সম্ভবত ওই কিশোর আগুনে পুড়ছে আর বঞ্চিত হচ্ছে। টোকন ঠাকুরের লেখা। টোকন-দা ওই কিশোর কী আপনার প্রিয়ফুল কেড়ে নিয়েছিল?
শেষমেশ আরো একটি ফুলের মনীষা। একশলায় একটি গোলাপ। লাল। তুলে এনে আমি যাকে ফেলে দিয়েছি মগড়ার জলে। সম্ভবত পারমিতা-রই প্ররোচনা। অর্থহীন অর্থজ্ঞান। আর বহুদিন পর স্পষ্ট কণ্ঠস্বর। তারই। কল্পনা করছি শাহবাগ, শিশুপার্ক, জাদুঘর। একটি নির্দিষ্ট শপিং প্লেস, কিছু ফাওয়ার শপ। ভেসে আসা কণ্ঠস্বরটি এরকম ছিল না কখনো।
বাথটাব
আগেও বলেছি ফল কীটদষ্ট, গাছপাকা তবু
কে শোনে কার কথা দলে, সবাই নিজের কথা বলে বলে
হয়রান, তুমি শুনলে, শুনেই পাকালে জট, পেটে–
চিনচিনে ব্যথা নিয়ে সোজা টয়লেটে।
শীতল জলের ভাণ্ড, বাথটাব, সুদৃশ্য দেয়াল
মত্ত হলে কর্ণযান, কুহকী ওঙ্কারে...
বলেছ লাগে না তার তুচ্ছকথা চলে অবিরাম
ফলে আরো কিশোর হয়েছ গূঢ় সমুদ্রের জলে।
জল অন্ধ জল বন্ধ জল সূক্ষ জীবনের মানে
মৃতসার, ফেনায় ফেনায় ডুবে লিখে দিলে শেষে তোলপাড়।
একদিকে জলপড়া টুপটাপ, শাওয়ারে বৃষ্টির তর্জন...
আরদিকে পিঁপড়ে-বহড়, ঠোঁটে বিষের কাহিনী, ক্রীড়াছল
এখন নিজেই তুচ্ছ, হচ্ছো তুমি, আড়ালে-আবডালে!
অবনির কড়চা
বুঝেছিস অবনি-
আমরা দিনগুনি
আগত সুখের, মচ্ছবে
বাতাসের ঝুনঝুনি।
কখনও উৎসবে, পার্টিতে
ক্ষুদে কথা, বিধিমালা
দিন-দিনেকের-
তড়িঘড়ি আপ্যায়ন, জনাবের
পিঠাপুলি, পাটিসাপ্টা দেখা হবে
বুকে হাপরের ঝড়ো-ঝাপ্টা।
কথা বলিস কাল, অফিসে
টেলিফোনে, নিত্য হাসফাঁস্
দিন গুনে গুনে রে অবনি
আমাদের ঝুনঝুনি।
কত আসছে, কত যাবে
চাচা দেখ আগে আপন পরাণ-
বুকে আঁটা খিল; পাথরের আজ
কথাগুলো কথা নয় মানুষের
ভোঁদড়ের ঢিল।
রীতি যদি সনাতন
পুনারোপি কাণ্ডজ্ঞান
লোকে-লোকেদের
কান নিয়ে গেছে চিলে
ও ভাই দেখেছিস অবনি
আমরা ধুঁকেছি আকালে।
দেশ নয় হারাবার, বিধি নয় জ্ঞান
কিলিয়েই না হয় পাকালে
কাঁঠাল-ঘণ্টিতে, আহারে অবনি
যথারীতি ঝুনঝুনি।
মহাযোগ
সেতুর প্রসঙ্গ এলো, তাই বলি কাঠ প্রয়োজন, বেঁধে দিতে দুইকূল
ব্যস্তজন, মাঝখানে নদী ভাটিদেশে, থমথম, মীনেদের ঘোরাফেরা
সংযোগে সিদ্ধার্থ মন, পিতৃব্যের প্ররোচনা, স্মরণের বনমালী-বনে।
নদী দিয়ে কত কী না আসে! নৌকাভর্তি স্নেহ-তারল্যের, বৈদেশমনীষা
কোটির গুটিকে থাকে সেতুমর্ম, সব ধর্ম বর্মে নয় অন্তরায়ও কিছু
ফলত যা কিছু অর্থ প্রজ্ঞাজ্ঞান, মূল্যবান, তাতে, ব্যস্ত আজ কাঠুরিয়া।
সেতু হবে, হাট হবে নদীকূলে আর কিছু ঘর নিতিদিন পসরায়
নীতিসহ গ্রামায়ন গ্রামে গ্রামে, দেশায়ন দেশে দেশে আশা-বসতির।
একদিন তাই হলো, হাট এলো, ঘরে-ঘর, লোকালয়, বন বেড়ে গেলো
মহাযোগে কায়াতরু, নগরে নতুন সখ্য, ভাব হলো মানুষে মানুষে
একদিন আরো কিযে হলো! হাতে-হাত, কাঠমুখি হলো আমাদের দিন।
ঘাটশিলা
এই যে হাতির পিঠে চড়ে স্বপ্নজাল, চলে যাচ্ছো দূরে, ময়ূরপুচ্ছের
ডানা আর সিংহ-কেশরের মুষ্টিবদ্ধ হাত, দূরাধিক স্বপ্নকুয়াশায়
আমি দেখি পাললিক ঘাটশিলা, উঁচূ‚ ওই পাহাড়ের জ্বলমান শিখা।
আজ এই চাঁদের ফসিল থেকে ভ্রমণ-নৈবেদ্য এনে ছড়িয়ে দিয়েছ
কী ছিল এমন ঘোর, রাত্রিজ্ঞান, আফ্রো-এশিয়ার হাওয়া, ধূপ-শীতলের
কলরবে মাতোয়ালা, সান্ধ্য-প্রদীপের আলো থেকে পরান্মুখ তন্ময়তা।
পাখ-পাখালির দেশ আমার, ভোরের নির্দেশিকা দেখ কোমলকুহেলী-
পলে পলে, ভাসমান চরাচরে মনসিজ মনীষার ছায়া স্তরে স্তরে।
আমার মুগ্ধতা আমি কী দিয়ে দেখাবো বলো, কী বিশাল নম্র হাকালুকি
কোড়াডাক সন্ধ্যাকালে, মধুর কোমল কলতানে উদ্বেলিত শতদেশ
কিছু ফটোগ্রাফ, ব্যস্ত পর্যটন, দাঁড়াও পথিক মন বসেছে ক্যামেরায়।
এডিডাস
এই শীতে লগবুক আর কিছু নবারুণ, কিশলয় মনে পড়ে গেলো
কফির উতলা ঘ্রাণ, সন্ধ্যার রেলিং ধরে ঔপনিবেশিক ছায়াতল
নাগিব, পামুক, সাত্রে, ঠাকুর, শিম্বোর্স্কা, জুল্লে, এডোনিস উত্তরীয় হাওয়া।
তোমাকে শুইয়ে রেখে মধুর আহ্বান এই বাংলায়, শিশিরে-ঘাসের
জড়িয়ে-ছড়িয়ে আছে কৈশোরক ভোরবেলা, স্মৃতি, একসেট এডিডাস
ছিল স্বপ্ন, হলে ভালো হতো, দৌড়বিদ হওয়া যেত কিনা! কিংবা না হলেও।
কত কী আসবে, যাবে, ভোরের বাগানে তিন পাঁপড়ির নাম না জানা ফুল
হয়ত দেবে না কেউ প্রতিক্ষিত কুয়াশায়, বটতলা, সুমেশ্বরী-তীরে।
এখন নগরে এই ভোরবেলা, বিধিলিপি, স্মৃতিভাঙা দুয়েকটি কাক
শুকনো রুটির ঘরে অচেনা মানুষ, ভেজাপথ, শব্জিহাট সকালের
নিতিদিন কোলাহলে একসেট এডিডাস! বিস্মৃতির! আমার কৈশোরে।
দেহঘড়ি
চৈত্রশেষে বিরল এ হাওয়া, ঝিরিঝিরি, দুলে ওঠছে পাতামন সাইবেরিয়
আমি পাখি হলে বেশ মজা হতো, ওড়ে ওড়ে নীলাকাশ, ঝড়ের সংগ্রহ
ডানাজুড়ে, কিন্তু আমি পাখি নই, ডানা থেকে খসে পড়ছে বিষনিম এক।
এই যদি ক্রীড়া হলো, দেখ গাছালির রীতি, দাহনেও নিরব দাঁড়িয়ে
তোমার দেহেও আছে এ রকম সহন-সহেলী, স্বপ্ন আসে স্বপ্ন যায়
তাকে বলি গুরুগৃহ, বলি দেহী, কই গো তোমার বিষখেলা আগুনের!
আমার কবিতা নয় যন্ত্রণার, না পারার, কথাকলি, হয়ে না ওঠার
বপণের রীতি দেখ, যাকে বলি চাষবাস সেখানেও পীড়ন-প্রণালী।
চৈতালীর তুমুল দাহন শেষে বলি আজ কায়াতরু অধিক নুয়েছে
দেহঘড়ি যে রকম হলে রতিকান্ত, টিকটিক শব্দভুলে নিদ্রা যায়
নিজের কথাই বলি, আমার আমিকে আমি কাউকে দেব না, তোমাকেও।
আজকের ফুল
গতকাল-ফুটে যাওয়া ফুলে
এবং ভবিষ্যতের ফুল বিষয়ক
আমার বিশেষ কোনো কৌতূহল নেই।
প্রতিদিন এই পৃথিবীতে
অজস্র ফুলের কলি ফুটে
গন্ধ-তারতম্যে কোনো কোনো ফুল
মার খেয়ে যায় আর কোনো কোনো ফুল
ওঠে আসে আরো বেশি আবেদনসহ
তোমার টবের শুশ্রূষায়।
গতকাল-ফুটা গন্ধফুলে
এবং ভবিষ্যতের গন্ধফুল নিয়ে
আমার বিশেষ কোনো কৌতূহল নেই
আমি শুধু দেখি, আজকের ফুলটিকে
ফুল বলে চেনা যায় কিনা!
পাতাবৃষ্টি
পাতাবৃষ্টি! বিষ্মিত হয়েছি মেদিনীর অভিধানে
আদ্যন্ত নখর বিষে আমার তুলনা, তবু অধর কাঁপিয়ে দিনমান
ঝুরঝুর পড়ে যাচ্ছে পৃথিবীর সম্ভাবনা সব।
মালা গেঁথে রাহুচণ্ডালের কাকস্যের প্রার্থনায় দাঁড়িয়েছি সূর্যজ্ঞানে...
নিজেরই অঙ্গের শোভা করে ডাকি দেবতা-চৈত্রের।
ভবিতব্য মেনে নেওয়া ভালো-
ঝরে যাওয়া পাতাকাহিনীর অভিধান কোনো সাজানো গাছের
ওসব বাদেও দেখ বেড়ে যায় ঈর্ষার প্রকার।
পাতাবৃষ্টি! আহা রে চৈত্রের বাড়াবাড়ি-
আমাকে শুইয়ে দেয় ভবিতব্যে, বাঁশবনে, এড়াতে পারি না।
প্যাগোডা
খোসা ছাড়ালেই মাংসঢেউ, তরতাজা নিবেদন
শামুক কৌশলে তুমি ডিঙোচ্ছো দেয়াল
কানকোয় ঝড়ের প্রমূর্ত অভিজ্ঞতা।
এ নদী ও নদী, ছোট জলা, তারপর...
প্যাগোডার স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল, শ্যাওলায়
আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধেছ সংসার।
জল, ডাঙা আর এই ভেসে চলা অর্থ-অনর্থের
মেদিনীর সাপ্লিমেন্ট, ব্যাপ্ত গালিচায়।
ঘোর শীত, অঘ্রানের রোদেলা সকালে পাঠরত
অবুঝ আমার শিশু, পড়ছে-
খোসা ছাড়ালেই মাংসঢেউ, তরতাজা নিবেদন।
খোকা
তরুণ রাজনীতিক মাহি বি চৌধুরী-কে
পেছন পেছন আসে, গুনগুন গায়
বন্ধু ওগো... কী করে ভাবলে...
ভাবি, খোকা বুঝি পেছন পেছন চলে আসে কেঁদে
কোলে নিতে যাই-
গৃহিণীর ফেলে যাওয়া নেকলেস, বিবমিষা স্বর্ণের
খোকা কেঁদে যায়
পিছু পিছু প্রলোভন তাড়িয়ে বেড়ায়
নেকলেস, বিবমিষা স্বর্ণের...
আর মরিচিকা?
পেছন পেছন আসে, গুনগুন গায়
বন্ধু ওগো... কী করে ভাবলে...
বড় বড় লোকেদের স্ট্যাটাস সিম্বল
বাগানের ফুল-ফুটা দৃশ্য কিন্তু চমৎকার, তাতে
সৌন্দর্যচেতনা থাকে
যে গৃহে ফুলের উপস্থিতি, তাকে ঘিরে
আমাদের পবিত্রতা খেলা করে মনে।
এইকথা মনে হলো রামপুরা থেকে বাড্ডা হয়ে ফিরে আসবার পথে, রাস্তার দুপাশে কত নির্জন বাড়িতে ঊঁকি দিচ্ছে শত শত ফুল, জলসিক্ত, আহা! ফুলের বাহার। বিকেল-মনীষা তার ছড়িয়েছে প্রভা বিভাজিত ছাদে-বারান্দায়।
কালাকাল এইরূপে প্রজ্ঞাপিত। যোজন-বিজনে মগ্ন যারা, তারা আজ প্রভাময়।
ফুলের বশ্যতা মানি, একদিকে উপমিত কোমলতা আর দিকে পৃথিবীর তাবত বিপ্লব, রূঢ়-বাস্তবতা, সহিংসতায় তুমি নিরব-কঠিন দাঁড়িয়েছ। হরণের জাড্যতায় তুমুল কংগ্রেসী। রিক্সাঅলা বলে, বুঝলেন ভাই এইগুলা হইতাছে বড় বড় লোকেদের সৌন্দর্যচেতনা।
দেখলাম সত্যিই তো! সৌন্দর্যচেতনা...
বড় বড় লোকেদের স্ট্যাটাস সিম্বল।
কাটামুখ
কাটামুখ জ্বালাময়ী রক্তে ও লবণে।
এই তত্ত্বে মর্মাহত, ওষ্ঠাগত প্রাণ ফলে আজ অজ্ঞান হয়েছি
দীর্ঘ প্রণয়ের মোহে, মুখস্থ করেছি সব ধ্বনির জড়তা
তবু আজ, জানাবো না বিবরণ তাকে, অভিমুখ গন্তব্যের...
দিনে দিনে ক্ষারের শুশ্রূষা।
ফলে আজ খাদ্য গ্রহণের কালে, পোড়ামুখ, দৃশ্যাবলি জলে
জেগে ওঠে দ্বিধা ও সংশয়
কুরে খায় নির্ণিমেশ, ভিতরে-বাহিরে।
মহাবাতাসের বার্তা নিয়ে হেঁটে এসে বহুদূর...
সভ্যতার কাহিনী-ব্যঞ্জনা যত, গুপ্ত তড়পানোসহ ত্রস্ত
পিছলে পড়েছে সব এইখানে- ব্যাঘ্রে ও মহিষে
তবে কিনা ডেকেছে গভীরে অরণ্যানী, মোক্ষলাভে-
শস্য-দেবতার মায়া, বাড়ে দেশে দেশে
তবুও যাবে না বলা অমোঘ নিয়তি।
কাটামুখ জ্বালাময়ী রক্তে ও লবণে।
জমা হচ্ছে পাথরের বর
বন্ধু মুন্না, বন্ধুপত্নী রুম্পা ও তাদের কন্যা নাজাত-কে
সারাটি বিকেল জুড়ে এককোটি শাপলার উপস্থিতি
ভরকে দিলো সবুজের চিহ্নায়ন, অলিখিত আমার পয়ার
তোমাদের দুজনকে না বলেই আমি লিখলাম-
নির্জনে কোথাও থমকে থাকা
পুকুর-জলার মতো মজ্জাগত পরিচয়...
বুকে ধরে কখনো বলিনি-
...ফুলকে না বলা কথা।
জনহীন বেলাভূমি কখনোই নয়
তার আরো গভীরে আমার গৃহে
একটু একটু করে জমা হচ্ছে পাথরের বর
আর ছোট ছোট কয়েকটি পাহাড়ের আহামরি...
ধূসর-শীতল কিছু অগণন হাওয়া
গরম কফির ঝোল, হালকা চালে স্মরণ করালো-
গুরু মানে গাঢ় কিছু, আমার পীড়ার মধ্যে
বসবাস, কোনদিন অপাঠ্য করনি।
ডিমপারা কচ্ছপের গেরস্থালি
আমাকে লুকিয়ে ফেলা গেলে ভালো হতো
প্রকাশ্য দিবসে ঘুমে রেখে
স্বপ্নগুলো নিয়ে যাচ্ছে পিপঁড়ের দল
বিষের কারবারী।
হাতদুটো প্রার্থনায় মগ্ন নদীর প্রবহমান জলে
চারদিকব্যাপে মাকড়শার জাল,
কচুরির জটায় ডিমপারা কচ্ছপের গেরস্থালি
বাসা বদলের সম্ভাবনা ভেবে
তুলে আনি ডাঙায়
একি! এতো দেখি সেই নদীর সংগীত
পুরনো দিনের গান, আমাকে বাজায়।
আমাকে লুকিয়ে ফেলা গেলে ভালো হতো
প্রকাশ্য দিবসে ঘুমে রেখে
স্বপ্নগুলো নিয়ে যাচ্ছে পিপঁড়ের দল।
স্বাধিনতা
আলকথা বলি...
যে বার স্বাধিন হলো দেশ
বিজয় বিজয় বলে চিতকারে ফুতকারে-
মেতে ওঠি আমরা কজন, ভোরে; দেখ কী সুন্দর
সূর্য! লাল, আকাশে পাখির ঝাঁক, উড়ে যায় দূর, অজানায়
আমরা কী স্বাধিন তবে? যুদ্ধহীন, বলে কেউ, তুই চলে যা... যা...
হৃদয়ে তরুর দাহ, ক্ষতচিহ্ন, মেয়েটার প্রশ্ন
বাবা বলো, আমরা কী স্বাধিন তবে? যুদ্ধ কই?
মেয়েকে জড়িয়ে বলি ‘বুকে’
মেয়েটা বুঝে না।
শীত নামে ভিখিরিপাড়ায়
আশরাফ রোকন-কে
যদিও বসন্ত আজ প্রচারিত খুব বেশি, দিকে দিকে
পথে, লোকমুখে।
প্রয়োজনে, সুসময়ে বসন্তের উদ্ধৃতি বর্ণনা...
কিন্তু আজ শিশিরের কোমলতা শিহরিত করেছে তোমাকে।
দৃশ্যায়িত এইসব ভাঁটফুল ডোবার-
কিশোরী ধানের মাঠে গমের ব্যঞ্জনা, বেড়ে ওঠা
তথা এই শস্যের পালানে মুগ্ধবত অবনত
সর্ষের কোমল নৃত্যে-
দীর্ঘ দীর্ঘ মাঠ আর আলপথে ঘাসের
স্পর্শানুভূতি, তাড়িয়ে নিলো গ্রামে- অতীতমন্থনে।
ক্যালেন্ডারে দেখেছো শীতমাস এসে গেছে কাছাকাছি
পাতা-কুড়োনীর চোখে ধূসর সন্ধ্যার মুখচ্ছবি
ভীতগ্রস্ত, শীত নামে ভিখিরিপাড়ায়।
ধর্মফল
একটু একটু করে গিলে নিচ্ছো সর্ষের যন্ত্রণা।
তবু বলি, অমৃতের বিষে জরো জরো...
তোমাকে চাইতে আসিনি গোধূলির ফল
কীট ভেবে যদি কেউ মুদ্রা বিনিময়ে
নিয়ে যায় নিজের সন্তাপ
আহতের গীতমালা তাকেই পড়াবো জনান্তিকে।
ওই দেখ সর্ষে পিষে জবুথবু অঙ্কুরিত...
অব্যর্থ আঙুলে আজ মননের মহিমা ঢেলে ঢেলে-
স্নানমুখি, নত, কাঁপা সর্বো কনিষ্টের অকণ্ঠ যমুনা!
একটু একটু করে গিলে নিচ্ছো সর্ষের যন্ত্রণা
তোমাকেই কিনা প্রণমিত ভাবি আমি
উত্তপ্ত মোহনা,
করুণ দগ্ধতা; মাতৃ-রূপিনীর বেদনার ভাষা
ছোট ছোট সাজিয়ে রেখেছি পথে পথে
অনুভূতিহীন ধর্মফল!
তোমাকে চাইতে হয়- হাস্যকর!
আমার যে ধ্বনি ছিল
বিবরণে জেনেছি সামান্য, সামান্যই ছিল ঘটন-রটনা
আসবে আসবে বলে পায়ে ফুটে গেল কালোপিপঁড়ের বিষ
কাঁকড়ার উপমায় যে প্রকারে ব্যবচ্ছেদ হয়-
তোমাদের চাল-সুপারির কটকট ধ্বনি দাঁতের মর্মরে।
আমার যে ধ্বনি ছিল, নিচুস্বর, কাঁপা-ভীরু, উচাটন টানে
ক্রমে ক্ষীণ হয়ে এলো আরো, রাখো তবু আবেদন
বরাবর দাহিকাবিবর-
পুনরায় কে পালালো গ্রামদেশ ছেড়ে?
ভয় একটাই, সবুজের, মর্তপুরুষের; দিকে দিকে তারই জয়ধ্বনি।
তরল পচাইয়ে মগ্ন যারা
তারা জানে ইতিহাস, সংগীতের, গভীর স্বপ্নের।
দোলনায় দোলা কার্যরত কোমলতা একজন, যথারীতি সনাতন।
দীনশরত, আমাকে
এই মেঘ, রৌদ্র আর শরতের গল্পগুলি সময় সময়
ব্যস্ত রাখে দুরন্তের, শৈশবের, পোড়ায়, পোড়াতে চায়।
ল্যুভর মিউজিয়মে চিত্রশরতের বাঁকা হাসি, মুগ্ধবশ
একবার হাসে মোনালিসা
আর বীতনাথ, গ্রাম অডিটের মেয়ে নিশা।
পর্যটকের মোহ ভেঙে পেরে ওঠা কিশোরের বড়শির ছিপ
দণ্ড ভুলে দুরন্ত একটি মাছ... লাফালাফি...
নন্দনভাবনা, ঠোঁট কামড়ের মেঘ, বৃষ্টিতে কাঁশফুল
ধোঁয়াশায় দীনশরত, আমাকে ব্যস্ত রাখে, পোড়ায়, পোড়াতে চায়।
খরস্রোতা নদীটির শান্তজল, থমথম, নরম কাঁশফুল
মেঘের বৃষ্টিতে বানিশান্তা চিন্তালয়, ধোঁয়াশার আকিঞ্জন
জেগে ওঠছে কাঁশের মেয়ে রিবড্ সেনসেশন।
চেতনায় খুদকুটে ডানাখুটা শাদা কবুতর...
আর এক বীতনাত, পল্লিতে-বার্তায়, ধোঁয়াশায়
দীনশরত, আমাকে ব্যস্ত রাখে আরো, পোড়ায়, পোড়াতে চায়।
কোকিল
ডেকেছে বসন্তে, বনে বনে লোকালয়ে
ইথার কাঁপিয়ে-
বরাবরই সুমধুর গলা-বলে অধিক প্রশংস পাখিকুলে
আমি করি পার্থক্য রচনা
দেখাও তো দেখাও তো মিতায় বন্যায়
মিলে যায় কিনা-
শাস্ত্রীয় সংগীতে কিংবা তারানায়
সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলই শোনো শোনো পিতা
জনারণ্যে বিবৃত রয়েছে
পাখিরাই শ্রেষ্ঠ সুরকার সংগীতের...
আদিতেও দেখ
যখন ছিলে না তুমি বনবংশে
কোকিলের সংগীতেই মুগ্ধ ছিল বনসম্প্রদায়
উত্তরে-দক্ষিণে-পুবে, ঈশান-নৈঋৃতে
দশদিকব্যাপে তার সংগীত চারণ-
তোমার দস্যুতা দেখে ক্রমে সরে গেছে
প্রতীকবিশ্বের গূঢ় তেজস্বীমথুরা সংগীতের...
পরম্পরা
মনে হয় ধারণার মধ্যে কোন এক
সমুদ্র বিস্তার করেছিল,
আর আমি রচনা সম্ভারে আরো নত
হয়েছি কেবল কবিতা কবিতা বলে।
পিতামহ_ তার দীর্ঘছায়া সুতো টেনে
আনিয়াছিলেন পিতৃদেব,
তারা চাষ করেছিলো শস্যের মহিমা
মানুষের প্রতি ভালোবাসা।
গেরস্থালি সূত্র ধরে একদিন সকলে
ঘরে ফিরে যায়
পথ ভুলে আমিও গিয়েছি কিন্তু
যে পথে যায় না আর কেউ।
পাতার জীবনী
মেঘেদের কলেজের পাশে বসে বলা-
নন্দনতত্ত্বের গল্পগুলি ম্লান হচ্ছে রোদে পুড়ে।
এখন কে তোমাকে বলেছে
সমুদ্রের মন্থরতা
তর্জন-গর্জন শেষে সমুদ্রও কোথাও কোথাও
বিরূপ চেয়েছে ওই পাহাড়ের মতো
দাঁড়িয়ে গুনতে নিস্তব্ধতা।
বরং এটুকু সার্থকতা শিখে এসো
পাতার জীবনী পড়ে
কী করে সবুজ থেকে থেকে
মলিনতাগুলি লিপিবদ্ধ হচ্ছে চৈত্রের দিবসে।
দারুণ অবহেলায় পড়ে আছে যে শুকনো পাতা
আমার জীবনী পাঠে এর চেয়ে কোনো-
সুন্দর উপমা নেই পৃথিবীতে।
সরল সমীকরণ
মানচিত্র দেখেই কাঁপছি, এত জটিল রেখার কারুকাজ
রেখার গভীরে আরো রেখা তবে কিনা
চোখ-বুঁজে ভেবেছি সহজ, ফলে তোমাকে লিখেছি
অজ্ঞানতা, অন্ধ বর্ণমালা।
যে ভেবেছে সরল সমীকরণ ভুল ব্যাকরণে
তাকে দিও পত্রালীর ছায়া, জমিনের মালিকানা আর
প্রবেশাধিকার নগরীর রূদ্ধদ্বারে
দেখো বুঝে নেবে ঠিকঠাক জল-শোষণের তাবত হিসাব।
কফিনে যায় না একা কোনো প্রাণ
সাথে থাকে জলে-ডুবে মরা অজস্র মৃত্যুর গান।
সবুজ মাঠের পাশে হেঁটে যেতে যেতে
যে বলেছে সুজলা সুফলা আজ হয়েছে বিলীন
সেই শুধু জানে সবুজের মানচিত্র
সহজ ছিল না কোনো কালে
যাও দেখে আসো গিয়ে শুক্রনদী পার হয়ে।
খননের প্রয়োজনে
জেগে আছি মৃতের চেতনে, রূঢ়দ্বার ভেঙে ভেঙে
জারুলের বন থেকে উঠে এসেছিলে
জবাববিহীন এক বিপরীত সভ্যতায়
আরাধ্য কংক্রিটে।
বালিয়াড়ি ভাঙা জাহাজের পিছে পিছে
চলে গেছো নাবিকের গৃহে
অচেনা ভোরের সমাধিতে, ফুলে ফুলে
তৃণদের উপমাবিহীন এই শহর একদিন
নেমে যাবে পুরোনোর মাঝে, কয়লার স্তুপে
ধাতুতে ধাতুতে।
দূরে কুয়াশার সেতু পার হয়ে তুমি চলে গেছ
সাতটি তারার চক্রবালে-
আমাকে দিয়েছো ফেলে জনমধ্যে খননের প্রয়োজনে
সভ্যতার কোণে।
মরেছো উদ্ভিদ-জালে
ছড়িয়ে রেখেছি গৃহে- সহজ কথাটি
এত টানা-ছেঁড়া তবু প্রাণ যায় ঘাস-ফড়িঙের
লেজে; ক্ষুদ্রকীটে ডুবে মরা।
তারার ব্যাপ্তিতে তুমি জেগে ওঠো ধাতু, স্বপ্নপরী
ফুল বেঁচে যাক এইসব কোমলতা
ভোরের রঙিন সূর্যোদয়ে আর পাখিদের কণ্ঠে
শোভা পায় নিরস্ত্র ললিতকলা; বাদ্যের মন্ত্রণা।
মরেছো উদ্ভিদ-জালে, গূঢ়তত্ত্বে; দৈব প্ররোচনা বাজে কানে
দৈবের আগুনে নয় সহজিয়া কলা
তাপিত জলের স্তুতি, পতঙ্গের গান
খেলা শেষে পতঙ্গপ্রবণ শিশু অবাক সকালে
ব্যবহৃত হও মরাকাঠ, কয়লার ইতিহাসে।
ফুলের বাণিজ্য
ফুলের প্রত্যক্ষ চাষে শিশুবোধ লুপ্ত হয়ে যায়।
শিশুদের শিক্ষাদানে ব্যবহৃত প্রথম বর্ণই চিত্রকলা
ফুল ধরে ধরে তুমি শিশুদের শেখাচ্ছো ফুলের
গন্ধ বিবরণ;
তবুও শিক্ষার প্রশ্নে
যে সব চিত্রের ব্যাখ্যা করি আজ জড়তাপ্রসূত
সে তো অবয়বহীন শূন্যকায় দ্বিধা।
ক্যানভাসে ঝরাফুলে বেদনা থাকে না
প্রজাপতি বসে না কখনো ক্যানভাসে আঁকা ফুলে
এইভেবে ফুলচাষ করে বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখে কেহ কেহ
ফলে প্রতিদিন পথে নেমে দেখি কত মৃতফুল!
এইসব প্রত্যক্ষ মৃত্যুতে বিরহিত থাকে মন।
একথা জেনেও তবু ফুলের বাণিজ্যে কিছুলোক
সম্ভাবনা দেখে প্রতিদিন।
জলহীন সমুদ্র সমুদ্র নয়
প্রকৃত প্রস্তাবে ডাক কেউ শোনে? তবে কেনো-
বলে থাকো ডাকের মহিমা...
যদি সে ফিরে না চায় সাধনার ফল
বোবা-কালা ধুলায় লুটায় অনুতাপে
অনুযোগে তবু বলে রাখো তত্ত্বগূঢ় আলোচনা
সম্মুখ ভাষণে।
সমুদ্রে সকল ডাক অনর্থ-চিৎকার, এইকথা
জেনেও বলেছ তুমি সমুদ্র-কে মানো
উপেক্ষার ভাষা বুকে নিয়ে
সরল সমুদ্র আজ হয়েছে বিশাল।
গোলাপ ফুলের কথা ভেবে দেখো, সুবাসিত ঘ্রাণ আর
কোমলতা না হলে কী, দিতে তুমি তোমার প্রণয়!
যতই সমুদ্র বলো জলহীন সমুদ্র সমুদ্র নয়
খরা-পোড়া নিম্নাঞ্চল শুধু
আকাশের পতিত বৃষ্টির জল ডেকেছে নিরবে।
গোপনে জ্যোৎস্না বিক্রি করি
কোনো এক অন্ধকার বিষয়ক কথা চলছিলো
পাশে, চুপি চুপি একজন অহেতুক দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আমরা আলোতে ভয় পাই- এই বলে...
কোথা হতে তবে ঢুকে পড়েছে রে আলো
চারিদিকে এত পরিবেশ- সামাজিক
এইসব চোখে চোখে রেখে তুমি বলো
এতগুলা পশ্চাদের গন্ধ বড় বিশ্রি লাগে আজ।
দেশে খালি চুরি!
পুলিশের ভয়ে-
গোপনে জ্যোৎস্না বিক্রি করি।
ঈর্ষা
ঈর্ষার নিচেই দেখো লুকিয়ে রয়েছে লজ্জা
হীনমন্যতা, সম্ভ্রম।
নীতিশাস্ত্র গীতিশাস্ত্র পাঠ হয়ে গেলে
একদিন ফুলের সৌন্দর্যে তবু ঈর্ষান্বিত হলে
বৃরে শরীর থেকে এরকম প্রস্ফূটিত হয়
যা কিনা তোমার পক্ষে সম্ভব ছিল না কোনদিন।
পাড়ায় পাড়ায় আজ প্রচারিত হচ্ছে
যে গাছে অধিক পাতা ও গোছানো থাকে
তা দেখেও ঈর্ষান্বিত হয়ে যায় পথের মানুষ।
মোমাখ্যান
আগুনের কাছাকাছি মোম কিন্তু আপনাতেই গলমান
পুড়ে পুড়ে নিজে প্রসারিত করেছে আলোক বিভা
দেহখানি পুড়েছে উত্তাপে,
যদিও প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত ফলাফল আলোক প্রদান
আর তাতে পোড়ালো সে আপন ভুবন।
জ্বলো কিংবা জ্বালো উজ্জ্বল আলোর সম্ভাবনা ভেবে
যেরূপ দিয়েছ ভরে সুতোখানি মোমের গভীরে
সেমতো আলোর নিশ্চয়তা পাবে প্রতারণাহীন
বরং সলতে ব্যবহারে আছে যত জটিলতা
তার ফলে চেনা যায় ভুল কারিগর।
আগুনের কাছাকাছি মোম শুধু গলমান নিজেকে পুড়িয়ে
কারুময় আলোর সাক্ষর বলে দেবে
মোমের শরীর ভেদে-
কতটা আলোর প্রকাশক তুমি সুতো ব্যবহারে।
পরিবেশ পরিচিতি ছায়া
তন্ময় হয়েছ পথে, এতো আলো! উপচে পড়েছে
সূর্যের প্রসার।
আলোর সম্প্রসারণে মুগ্ধতাই বাড়ে গৃহে গৃহে
তুমি কিনা ছায়া দেখে দূরত্ব মাপছো
মানুষ ও ছায়া আর যত আছে সম্পর্কের সেতু
তারও চেয়ে প্রমাণিত থাকে সব বৈপরিত্ব,
ভেতরে তোমার।
এই বাক্যে, জটিলতা তোমারই বেড়েছে
কেননা দেখো যে, আলো কিংবা ছায়া আজ
প্রয়োজনে ব্যবহৃত তোমারই গভীরে।
যে আলোর বৈপরীত্য আজ, দেখছো দিনে ও রাতে
সে কেবল চোখের সাম্রাজ্যে প্রকাশিত
ভিন্ন ভিন্ন কারুকাজে।
বোবাফুল
কণ্ঠ নেই আগুনের গৃহে স্তব্ধতা-গমন আর
এমন আঁধার হয়ে নক্ষত্রকে করেছ সন্দেহী,
লুকিয়ে রয়েছ তুমি; ছোট ছোট তারাপথ থেকে
তোমার প্রত্যাগমন, সেকথা ভেবেই একদিন
ভাবতে বসেছি শুধু প্রকাশ্যে রেখেছ চোখ আর
বাদবাকি অপ্রকাশ্যে রেখে দিলে বিবৃতিবিহীন।
সামান্য বৃত্তান্ত ছাড়া তোমার কি নাম? সে কথাও
আড়ালে আড়ালে আজ গুঞ্জরিত হয়, শিশুঘুম
নামে যদি চিনে ফেলি তবে ভুল চেনা হবে, যদি
না জানি তোমার সেই বালিকা বয়স? ঋতুবতী?
যেভাবে কেটেছে দিন পাগলের মত নেচে নেচে
সেই রহস্যের দ্বার উন্মোচিত করে, আমি আজ
গভীর আঁধার রাতে, দেখে ফেলি ঠাহরবিদ্যায়
ফুটে আছো বোকাসোকা, তুমি এক পর্বত-চূড়োয়।
দি পোয়েট্রি: সার্কুলেশন অব রেইন
সশব্দ বৃষ্টির প্রশ্নে তোমার ড্রইংরুম বেশ মুখরিত
সাউন্ড সিস্টেমে।
বুলেটপ্রুফ বাসায় বসে বসে দেখছো চ্যানেলে
অঝোর ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে, বাইরে গাড়ির শব্দ
পরিস্কার বৃষ্টির বর্ষণে সিক্ত তোমার শরীর
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে যেরূপ আন্দোলিত পাতার শরীর।
ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম ভেদ করে
গ্রামে গ্রামে বৃষ্টি হচ্ছে অফুরাণ- তার ধারাপাত
রেইন সার্কুলেশন, আমি শিখি ছাগল তাড়ানো এক
কিশোরীর থেকে...
তার চোখে আন্দোলিত সহস্র বৃষ্টির প্রকাশনা।
রোমান্টিক-চর্চা কেন্দ্র
বৃষ্টি বিষয়ক এত এত উত্তেজনা দেশে দেশে
আর বাঙলা প্লাটফর্ম খালি বৃষ্টি ভয়ে-
এই কর্মশালা শেষে কজন সফল অভিজ্ঞানে?
নিশ্চিত রাত্রিকে তারা ছড়িয়ে বসেছে অন্ধকারে
পাতিলের তলানিতে আলোর পসরা
কিন্তু এই শত শত তারার বাজার
দিকে দিকে স্টেশন মাস্টার...
প্লাটফর্ম ছেড়ে বহুদূর গেছে ট্রেন যাত্রীসহ
এখনো হেডলাইটগুলো জ্বলে, আহা!
চারিদিকে কত শত বর্ষারূপ দোহারে রচনা।
কুপিবাতিসহ বৃদ্ধা, অপেক্ষমাণ পুরনো গৃহ
ফিরে আসা সন্তানের চোখে প্রতিক্ষার শিহরণ
একদিন এই বঙ্গদেশে বৃষ্টি হবে
রোমান্টিক-চর্চা কেন্দ্রগুলা ভিজে যাবে।
মহাদেশ
প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত এক মানুষের পাশে বসে থেকে
ক্রমাগত খেয়ে যাচ্ছি আমি, মৃত মানুষের মাংস...
ভীষণ ঘৃণার মতো আর এক টেনারির বর্জ্য
আমাকে ভাসিয়ে নিচ্ছে সমুদ্রের ঠিক মাঝখানে
গভীরে কোথাও এক পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে
বহুদূর সভ্যতার পদধ্বনি শুনতে শুনতে
সভ্যতার এক কোণে রক্তের কণার মতো একা
বিলবোর্ডে লেখা শব্দগুলো সহায়-সম্বলহীন
তড়পাচ্ছে তড়পাচ্ছে কী যে দোটানায় ঝুলে আছে
আমার মাংসের টুকরো, রক্তচক্ষু, পাখির কণ্ঠও...
ভেদ করে এদিকে আসে না রোদ, এমন নির্জন!
একটি তারাও আর চিহ্নায়িত হচ্ছে না আকাশে
কে আমাকে চালিত করেছে তবে বিষের ডানায়?
তবুও চলেছ তপ্তলাভাপথে
সহস্র বর্ষের কথা আর পূর্ব-পুরুষের শ্রমনিষ্ঠাসহ
বেরিয়ে এসেছো ভোরে, কুয়াশাসকালে
অচেনা বাতাস যার কোনো রঙ নেই
অনুভূতি ছাড়া।
তুমি সে গুপ্তঘাতক সবুজ সূর্যের হত্যাকারী
পরগাছা হয়ে আজ মেরে যাচ্ছো
কচি কচি ডানা অন্ধরাত্রে।
যতোবার শুনেছি কাহিনী, উপকথা-
মুগ্ধ শ্রবণের গ্লানি, দিনে দিনে ইন্দ্রিয় প্রসার
দৃষ্টিকাতরতা ফলে আজ অন্ধ তুমি
তবুও চলেছ তপ্তলাভাপথে।
পায়ে চলা পথে শুধু, চলে যাচ্ছে ঘাসের শ্মশ্রূষা
মরেছে উদ্ভিদ, বিশেষত স্বচ্ছ আর কিছুই হচ্ছে না জানা।
গূঢ় এক মনুমেন্ট
পুনরায় মৃদু বর্ষারূপ চেতনবিজ্ঞানে, আষাঢ়ষ্য অমোঘ দিবসে
গূঢ় এক মনুমেন্ট তার রূঢ় শিরদাঁড়া, উঁচু ওই আকাশের বৃষ্টি ডেকে আনে
শৈশবের স্কুলঘরে ভীতি, ভিজে চরাচর, অন্ধ প্রতিবেশ
কোনোদিন মনেও ধরেনি মেঘ, আহা বর্ষা! বাঁদাড়ে-টিলায় অবিরাম।
ভিজছে পতাকা একা, মননের বর্ষা নেই প্রতীতিরা আছে
গৃহমুখি কয়টি কিশোরী ছাত্রী উচাটন মফস্বলে, তারা
আগুনের বেসাতিতে বর্ষারূপ, বুকে ধরে বাংলাদেশ ভিজিয়ে চলেছে।
এম কে সি এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় আর কি কি যেন শিক্ষালয়
বর্ষার ক্রীড়ায়, আজও, কারা কারা আসে ভিজেদের দলে, নতুন শিক্ষিকা
গূঢ় কালা-বরিষায়, মানকচু’র পাতা আছে, আয়
মাথা খেয়ে ডাকছি কালা রে...
ভীতিটিতি ভেঙে আয়, দেবো তোকে দেহের গরম।
দৃষ্টিসীমা ভেদ করে, গোপাট উজার করে বর্ষাধারা অবিরাম, পাশে
শস্যমাঠে, নুয়ে পড়েছে কাকতাড়ুয়া–
কলাগাছের ভেলায় চঞ্চলতা, ডুবো-সাঁতারের ব্যাকুলতা, কালাজ্বর
কেবল ভাণুদা বসে একা, দূরদর্শি, দূরকল্পে ভীতিহীন।
গূঢ় এক মনুমেন্ট তার রূঢ় শিরদাঁড়া, উঁচু ওই আকাশের বৃষ্টি ডেকে আনে
আহা বর্ষা! কোনোদিন মনেও ধরেনি মেঘ, বাঁদাড়ে-টিলায় অবিরাম।
সারাবেলা অগ্নিত আলেয়া
লাভালাভ বিষয়ের, কেনোদিন হিসেব করনি তালগোল
আপ্তবাক্য খ্যাদ্যাভাব, মূর্তমান দেশে–
আর তুমি ব্যাপ্ত হলে সূ টান, তার নিচে আর্ত-পরিত্রাণ
ব্যাকুলের, মরিয়া হয়েছ।
কিন্তু হায়! এরূপ বলনি মূলভাব, খাদ্যসার, এই হলো
আত্মভোলা মানুষের নিধি চিরকাল।
পরিস্কার ধারণা নিয়েও স্থিতধির, প্রজ্ঞারূপ, জবুথবু
মাটিতে করিনি চাষ হৃদয়ের, দূরে রেখে প্রাণমন চিলের ব্যাখ্যায়।
লাভ নেই, তৃষ্ণাকুল, খেলা বেড়ে যায় রোপণের অন্বেষায়
মনে পড়ে তার হাত, কিছু না বলেও সুষমায়...
একদিন ধীর, জিজ্ঞাসায়, ঢুকে গিয়েছিল গভীরে মাটির
তাতে ফল, ফুল, তরুলতা সবই ছিল ঝাঁকেঝাঁকে, কল্পময়।
মিছেমিছি ভ্রান্তিরূপ, কি হেতু চিত্রের? বারান্দায় প্রজ্ঞারত
বলো আর কাকে ছেড়ে ভাবো তুমি সারাবেলা অগ্নিত আলেয়া?
দেখ সবুজের বন। তৃণমূল। গরুগুলি। ঘাসগুলি। ওসব থোড়াই।
মানচিত্র
কতিপয় সুরের সন্ত্রাস ছোট্ট চালাঘরে, ঝুলন্ত বাঁদাড়ে
ভাঙাচুরা, তবু কতগুলা তারা পপাত করে।
সসতর্ক মনচোরা! ঢুকলো কী করে? কোন ফাঁকে?
গুরুর চরণে পড়ি জিজ্ঞাসিব আজ, এইরূপ ক্রীড়া হয়?
আমি ভাবি কাণ্ড-মূল! এক, আপনি দেখি শতেক।
অদৃশ্যে আছেন? সেই ভালো, বর্ণজ্ঞান স্মরণের...
সে এক রাত্রির কথা, পিছু ছার্বেন না, ছেড়ে দিলে মরে যাবো।
একটি কথার ফুল মনে ধরে মেঘ! লীলাময়
ক্ষাণিক বিরতি, ফের বাজে, এনে দেন এনে দেন দেখি তারে
কালা কাজলের রাগ, তাজা-সিক্ত ফুল তার কায়া-প্রতিমায়।
অসময়ে সেই মেঘ! কী জানি কী হয়, বুক ধুকপুক করে
মানচিত্র থেকে নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে, গুরু, আর কতদূরে?
Subscribe to:
Posts (Atom)
